যে কারণে ইবাদাত কোনো কাজে আসে না

ধর্ম ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৬:২৫ পিএম


যে কারণে ইবাদাত কোনো কাজে আসে না

বান্দার ইবাদত বন্দেগির উদ্দেশ্য হলো একমাত্র মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন। তবে তা যদি সমাজ ও মানুষকে দেখানোর জন্য তাহলে ইবাদতের কোনো মূল্য নেই এবং এই আমল কোনো কাজে আসবে না। আখিরাতে কোনো উপকারে আসে না। বরং তা মানুষের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি লোককে শোনানোর জন্য (ইবাদত বা নেক আমল) করে, আল্লাহ তার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহও কিয়ামতের দিন তাকে মানুষের সামনে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করবেন।” (বুখারি, হাদিস: ৬৪৯৯)

ইমাম ইবন হাজার আসকালানি (রহ.) ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘রিয়া’ হলো মানুষের দৃষ্টিতে বড় হওয়ার উদ্দেশ্যে ইবাদত বা নেক আমল করা। আর ‘সুমআহ’ হলো নিজের নেক আমলের কথা এমনভাবে প্রকাশ করা, যাতে মানুষ তা শুনে প্রশংসা করে এবং সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। একটি মানুষের চোখকে লক্ষ্য করে, অন্যটি মানুষের কানকে লক্ষ্য করে। তবে উভয়টিরই উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা অর্জন হয়, তাহলে তা ইখলাসের পরিপন্থী। (ফাতহুল বারি, ১১/৩৩৬-৩৩৭, দারুল মারিফা সংস্করণ)

আরও পড়ুন

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করে।’ (সুরা মাউন, আয়াত: ৪-৬)

তাফসিরে কুরতুবিতে বলা হয়েছে, এই আয়াতে নামাজ পরিত্যাগকারীদের নয়; বরং তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে, যারা নামাজ আদায় করলেও তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা কামনা করে।

রিয়া এমন একটি গোপন রোগ, যা নেক আমলকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এজন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে ভয় করি, তা হলো ছোট শিরক। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ছোট শিরক কী? তিনি বললেন, ‘রিয়া (লোক দেখানো)।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩৬৩০)

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার হবে, তাদের মধ্যে একজন হবে সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শিক্ষা করেছে, ইলম অর্জন করেছে অথবা আল্লাহর পথে দান করেছে। কিন্তু যদি তার উদ্দেশ্য হয় মানুষ তাকে আলেম, ক্বারি বা দানশীল বলুক, তবে তাকে বলা হবে, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। তোমাকে সে নামেই ডাকা হয়েছে, যা তুমি চেয়েছিলে।’ এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম, হাদিস: ১৯০৫)

সুতরাং বাহ্যিকভাবে আমল যত বড়ই হোক, ইখলাস ছাড়া তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় চিন্তা হওয়া উচিত, আমি কত বেশি আমল করলাম, তা নয়; বরং আমার আমল আল্লাহর জন্য কতটা বিশুদ্ধ হলো।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission