ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আশুরার রোজা একদিন রাখা যায় না কেন?

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ছবি প্রতীকী

যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে আশুরার রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে আশুরার রোজা একদিন রাখা যথেষ্ট, নাকি দুইদিন রাখা আবশ্যক এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা দেখা যায়।

হাদিস, ফিকহ, মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাখ্যা এবং সমকালীন ফতোয়া বোর্ডগুলোর সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান পাওয়া যায়।

আশুরার রোজার ভিত্তি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখতে পান, ইহুদিরা ১০ মহররমে রোজা পালন করছে। কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আ. ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে ধ্বংস করেছিলেন।

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তোমাদের চেয়ে অধিক।’ এরপর তিনি নিজে আশুরার রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি: ২০০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৩০)

আরও পড়ুন

এই হাদিসে আশুরার মূল রোজা হিসেবে ১০ মহররমের রোজাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এ দিন রোজা রেখেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলেন, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)

অর্থাৎ আশুরার দিনের রোজা নিজেই একটি স্বতন্ত্র সুন্নত এবং মহান ফজিলতের আমল।

তবে জীবনের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। হজরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই নবম তারিখও রোজা রাখব। (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিস ও ফকিহরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ১০ মহররমের রোজা বাদ দেওয়ার কথা বলেননি, বরং ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ যুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম উম্মাহকে ইহুদিদের থেকে স্বতন্ত্র পরিচয় দেওয়া এবং ইবাদতে অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ করা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ইচ্ছা প্রকাশ করার পরবর্তী মহররম আসার আগেই ইন্তেকাল করেন। ফলে তিনি বাস্তবে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা পালন করতে পারেননি। কিন্তু তার এই ইচ্ছা ও নির্দেশনা থেকেই ফকিহগণ দুইদিন রোজা রাখাকে অধিক উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন।

চার মাজহাবের ইমামদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো মাজহাবই শুধু ১০ মহররমের রোজাকে অগ্রহণযোগ্য বলেনি। হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি সব মাজহাবের আলেমরা একমত যে শুধু ১০ মহররমের রোজা রাখলেও আশুরার সুন্নত আদায় হয়ে যায় এবং এর ফজিলত লাভ করা যায়। তবে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা রাখা অধিক উত্তম এবং সুন্নতের অধিক পরিপূর্ণ অনুসরণ।

ইমাম নববী রহ. আশুরার রোজার স্তর বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সর্বোত্তম হলো ৯, ১০ ও ১১ মহররম তিনদিন রোজা রাখা। এরপর ৯ ও ১০ মহররম। এরপর ১০ ও ১১ মহররম। আর শুধু ১০ মহররম রোজা রাখাও সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ।

আরও পড়ুন

সমকালীন বিশ্বের প্রধান ফতোয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানও একই। মিশরের দারুল ইফতা, সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি, দারুল উলুম দেওবন্দ, পাকিস্তানের মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি, শাইখ ইবনু বায, শাইখ ইবনু উসাইমীনসহ অসংখ্য আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে শুধু ১০ মহররমের রোজা রাখা বৈধ, সুন্নত এবং ফজিলতপূর্ণ। তবে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা রাখা অধিক উত্তম।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ইচ্ছা, সাহাবিদের আমল এবং ফকিহদের ব্যাখ্যার আলোকে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা রাখা অধিক উত্তম, অধিক পরিপূর্ণ এবং সুন্নতের আরও নিকটবর্তী আমল।

ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি মানুষের জন্য সহজতা ও ভারসাম্যের পথ উন্মুক্ত রাখে। যে ব্যক্তি দুইদিন রোজা রাখবেন, তিনি অতিরিক্ত সওয়াব ও সুন্নতের পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হবেন। আর যে ব্যক্তি শুধু ১০ মহররম রোজা রাখবেন, তিনিও আশুরার সুন্নত থেকে বঞ্চিত হবেন না।

উভয় আমলই শরিয়তের স্বীকৃত পরিসরের অন্তর্ভুক্ত, তবে মর্যাদার দিক থেকে দুইদিন রোজা রাখা অধিক উত্তম ও অধিক পরিপূর্ণ সুন্নত।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সুখ দেখে কখনো নিজের মনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়কে কাজে লাগাতে অনেকেই বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার পড়েন।
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
আজকের নামাজের সময়সূচি
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা ব্যস্ততায় কাটে আমাদের প্রতিটি দিন। কাজ, পরিবার, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় আত্মিক প্রশান্তির কথা ভুলে যাই।
আজকের নামাজের সময়সূচি
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তিনি  এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সাংবাদিক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তার নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শায়খ আসলে সম্মানসূচক একটি ভূষণ। আমরা যেরকম ‘জনাব’, ‘শ্রদ্ধেয়’—এ ধরনের শব্দ দিয়ে মানুষকে সম্মানিত করার চেষ্টা করি, শায়খও অনেকটা তেমন। শায়খ শব্দটি মূলত সিনিয়রিটি বোঝায়। আরব বিশ্বে এটি খুব পরিচিত একটি সম্বোধন বা টাইটেল বলা যেতে পারে। সেখানে আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান করে শায়খ বলে সম্বোধন করেন। আলেমদের ক্ষেত্রে এটি একটু বেশি ব্যবহৃত হয়। তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। সেখানে বাংলা ভাষাভাষীরাও ‘শায়খ’ শব্দটি বলতে অভ্যস্ত। মূলত সেখান থেকেই ‘শায়খ’ শব্দটি আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয় যে এটি কোনো অর্জনের টাইটেল, তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়। মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দায়িত্বের বিষয় আছে, এটি তেমন নয়। আমাদের দেশে যেমন মাওলানা বা হুজুর বলে সম্বোধন করা হয়, সেখানে শায়খ বলে সম্বোধন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন।
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
আরও পড়ুন
মেসিকে সম্মান জানাতে নতুন রূপে সেজেছে জন্মস্থান রোজারিও
এবার জরিমানার মুখে পাকিস্তানি ক্রিকেটার গুল ফিরোজা
কাগতিয়া দরবার শরীফে পবিত্র আশুরা মাহফিল অনুষ্ঠিত
১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার আসল কারণ