ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হতাশ জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের ১৪ আয়াত

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ছবি প্রতীকী

জীবনে চলার পথে কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা, কখনো প্রাচুর্য, কখনো সংকট, কখনো সাফল্য, কখনো ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। এর মাঝে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ার অবস্থা হয়। ঠিক সেই সময়েই কোরআন আমাদের শেখায়, মুমিন কখনো আশাহীন হয় না। কারণ তার রব অসীম দয়ালু, সর্বশক্তিমান এবং সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।

কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে, যেগুলো ভেঙে পড়া হৃদয়কে শক্তি দেয় , নিরাশ মানুষকে আশার আলো দেখায় এবং বিপদগ্রস্ত বান্দাকে রবের প্রতি আরও দৃঢ় আস্থা ফিরিয়ে দেয়।

তাই যখনই হতাশায় ভুগবেন, নিম্নলিখিত কোরআনের এই আয়াতগুলো ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করুন এবং শান্ত মনে প্রতিটি আয়াতের অর্থ নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন। ইনশাআল্লাহ, ভেঙে পড়া হৃদয়ে আবার আশার আলো জ্বলে উঠবে এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

১. وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে। (সুরা আলে ইমরান: ১৩৯)

২. لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ‌ۗ

অর্থ: আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে। (সুরা বাকারাহ: ২৮৬)

৩. فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। (সুরা আশ-শারহ: ৫-৬)

৪. قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا‌ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

অর্থ: বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা জুমার: ৫৩)

৫. وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা আত-তালাক: ৩)

৬. أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়। (সুরা আর-রাদ: ২৮)

৭. وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

অর্থ: হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা আল-বাকারাহ: ২১৬)

৮. يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অর্থ: হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা-আল বাকারাহ: ১৫৩)

৯. وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ‌ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: আর তুমি সবর কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফিকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে, তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না। (সুরা নাহল: ১২৭)

১০. ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

অর্থ: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত করে না, নিশ্চিতই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা গাফির: ৬০)

১১. لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا‌

অর্থ: তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। (সুরা আত-তাওবা: ৪০)

১২. حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। (সুরা আলে-ইমরান: ১৭৩)

১৩. لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ

অর্থ: ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে। (সুরা ত্বা-হা: ৬৮)

১৪. وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

অর্থ: যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (সুরা আত-তালাক: ২-৩)

অতএব নিরাশ না হয়ে সর্বদা আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে এবং এই আয়াতগুলো অর্থ গভীরভাবে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্দর ও সুখময় জীবন দান করুন আমিন!

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
জাতীয় তথ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ৯০ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার প্রস্তুতি, জরুরি অবস্থা জারি
আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম ’আরটিভি আলোকিত কোরআন ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন ইহতেশামুল