ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী নতুন ওষুধ আবিষ্কার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকা ক্যানসার কোষের ‘অদৃশ্যতার আবরণ’ কেড়ে নিতে সক্ষম একটি অভিনব ‘স্মার্ট ড্রাগ’ বা বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ওষুধ আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই পরীক্ষামূলক ট্যাবলেটটি বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ ছয়টি ক্যানসারের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত করতে পারে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি ‘ইমিউনোথেরাপি’র কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইমিউনোথেরাপি অনেক রোগীর জীবন বাঁচাতে দারুণ ভূমিকা রাখলেও বড় একটি সমস্যা ছিল— কিছু সময় পর ক্যানসার কোষগুলো নিজেদের লুকিয়ে ফেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে এই থেরাপির কার্যকারিতা থমকে যায়। এই জটিলতা দূর করতেই যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের গবেষকরা তৈরি করেছেন নতুন এই ওষুধ, যা ক্যানসার কোষকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে দৃশ্যমান করে তোলে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় যৌথভাবে পরিচালিত এই ট্রায়ালে জরায়ুমুখ, মূত্রথলি, লিভার, অন্ত্র, ফুসফুস এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ৮৩ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রোগীদের পরীক্ষামূলক ওষুধ ‘GRWD5769’-এর পাশাপাশি ‘সেমিপ্লিম্যাব’ নামক একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হয়। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া প্রতিটি রোগীর শরীরেই এর আগে অন্যান্য সব চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছিল।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ২৬ জন রোগীর টিউমার লক্ষণীয়ভাবে সংকুচিত হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনের টিউমারের আকার কমেছে ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি। এছাড়া ওষুধটি অন্তত ছয় মাসের জন্য অন্ত্রের ক্যানসারে ৫১ শতাংশ এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৫৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগের বিস্তার পুরোপুরি থামিয়ে দিতে সফল হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, ক্যানসার কোষগুলো শরীরের ‘ERAP1’ নামক একটি এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ‘টি-সেল’ থেকে নিজেদের আড়াল করে রাখত। নতুন এই ট্যাবলেটটি সেই এনজাইমকে নিষ্ক্রিয় করে ক্যানসারের অদৃশ্যতার আবরণটি খুলে ফেলে। ফলে টি-সেলগুলো খুব সহজেই ক্যানসার কোষকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারছে।

আরও পড়ুন

শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন ‘এএসসিও’ (ASCO)-তে এই গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন ম্যানচেস্টারের দ্য ক্রিস্টি ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফ্যাসিলিটির মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক ফিওনা থিসলথওয়েট। তিনি বলেন, ঘরে বসে খাওয়ার উপযোগী একটি ট্যাবলেটের পক্ষে এমন কার্যকারিতা দেখানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। এটি একেবারে নতুন একটি পদ্ধতিতে কাজ করে, যা ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়ায়।

গবেষকরা এই সাফল্যকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করলেও জানিয়েছেন যে, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের (ফেজ-১) গবেষণা। সাধারণ মানুষের জন্য এই চিকিৎসা সহজলভ্য করার আগে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
পোপ লিওর সফল অস্ত্রোপচার
মোহাম্মদপুরে তৈরি হতো শিশুদের ভেজাল ওষুধ, গ্রেপ্তার ৩
প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে
ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে হার মানলেন চবির মহুয়া