ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বেশিরভাগ মানুষ কেন ডানহাতি? নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ রহস্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৫:০০ এএম
প্রতীকী ছবি

মানুষের মধ্যে ডানহাতি হওয়ার প্রবণতা এত বেশি কেন— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এবার যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক বলছেন, মানুষের দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটা এবং বড় মস্তিষ্কই মূলত ডানহাতি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ।

গত ২৭ এপ্রিল বিজ্ঞান সাময়িকী প্লস বায়োলজিতে (PLOS Biology) প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব ও জাদুঘর নৃবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ড. থমাস এ. পুশেল ও র‍্যাচেল এম. হারউইৎজ এবং ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক ক্রিস ভেনডিত্তি।

গবেষণায় বলা হয়, মানুষের মধ্যে ডানহাতি হওয়ার প্রবণতা পৃথিবীর প্রায় সব সংস্কৃতিতেই দেখা যায়। এমন কোনো মানবসমাজের তথ্য পাওয়া যায়নি যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঁহাতি। ফলে শুধু সংস্কৃতিগত কারণ দিয়ে ডানহাতি হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

গবেষকরা মানুষের হাত ব্যবহারের প্রবণতা বোঝার জন্য ৪১ প্রজাতির বানর ও এপের ২ হাজার ২৫ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তারা যন্ত্র ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, বাসস্থান, শরীরের ওজন, সামাজিক আচরণ, মস্তিষ্কের আকার ও চলাফেরার ধরনসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করেন।

আরও পড়ুন

তবে বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানুষের হাত ব্যবহারের ধরণ অন্য প্রাইমেটদের তুলনায় আলাদা।

ড. থমাস এ. পুশেল বলেন, এটাই প্রথম গবেষণা যেখানে মানুষের হাত ব্যবহারের পেছনের প্রধান তত্ত্বগুলোকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রাইমেট প্রজাতির তুলনা করে আমরা বুঝতে পারছি, কোন বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাচীন এবং কোনগুলো কেবল মানুষের মধ্যেই বিশেষভাবে বিকশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, মানুষের পূর্বপুরুষ যখন চার পা ছেড়ে দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করে, তখন হাত দুটির ব্যবহারও বদলে যায়।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, সোজা হয়ে হাঁটার ফলে মানুষের ওপরের অঙ্গগুলো বা হাত মুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে যন্ত্র ব্যবহার, অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে যোগাযোগ এবং সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতার কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে এক হাতের প্রতি বেশি দক্ষতা মানুষের জন্য সুবিধা তৈরি করে।

অর্থাৎ দুই পায়ে হাঁটা মানুষের বিবর্তনের এক বড় ধাপ ছিল। পরে মানুষের মস্তিষ্ক বড় ও আরও জটিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডান হাত ব্যবহারের প্রবণতাও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

গবেষকদের ভাষায়, মানুষের ক্ষেত্রে দুই পায়ে হাঁটার বিবর্তন এবং হাতের স্বাধীন ব্যবহার শক্তিশালী হাতের পছন্দ তৈরি হওয়ার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। যেমন— সংস্কৃতি কতটা ডানহাতি হওয়ার প্রবণতাকে প্রভাবিত করেছে, কেন এখনও কিছু মানুষ বাঁহাতি জন্মায়, কিংবা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও অঙ্গ ব্যবহারের যে পক্ষপাত দেখা যায়, তা কি একই ধরনের বিবর্তনের ফল?

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি বলে ধারণা করা হয়। বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যৎ গবেষণায় মানুষের মস্তিষ্ক ও বিবর্তনের এই রহস্য আরও পরিষ্কার হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
গবেষণায় নৈতিকতা, জার্নাল রিট্র্যাকশন ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় যবিপ্রবিতে প্রশিক্ষণ
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
উৎপাদন বাড়লেও পুষ্টিমান হারাচ্ছে ফসল, যা বলছে গবেষকরা
বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় রাবির ১৬ গবেষক