এক প্রজাতির হাঙর নিয়ে গবেষণায় নেমেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সেই গবেষণার মাঝেই তাদের সামনে চলে আসে সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতি। পাপুয়া নিউগিনির উপকূলে ঘটনাচক্রে আবিষ্কৃত এই হাঙরের নাম রাখা হয়েছে ডাজিয়নের হাঁটা হাঙর। বিশেষত্ব হলো, অন্য কয়েকটি বিরল হাঙরের মতো এটিও পাখনাকে পায়ের মতো ব্যবহার করে অগভীর পানিতে হেঁটে চলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সানশাইন কোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাপুয়া নিউগিনির মিলনে উপসাগর এলাকায় এপলেট হাঙরের বিস্তার ও তাদের জন্য বিদ্যমান হুমকি নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এপলেট হাঙর এমন এক ধরনের ছোট আকারের হাঙর, যারা জোয়ারের পানি সরে গেলে প্রবালপ্রাচীরের ওপর পাখনার সাহায্যে চলাফেরা করতে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির পিএইচডি গবেষক জেস ব্লেকওয়ে প্রথম নতুন হাঙরটিকে দেখতে পান। দলের নৌকার কাছাকাছি সাঁতার কাটতে থাকা প্রাণীটির গায়ের রঙ ও নকশা তার নজর কেড়ে নেয়।
জেস ব্লেকওয়ে বলেন, প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারি, এর গায়ের নকশা অন্য সব পরিচিত প্রজাতির চেয়ে আলাদা। বাদামি শরীরজুড়ে থাকা সাদা দাগগুলোই সবার আগে চোখে পড়ে। আমরা যে ধরনের দাগ দেখার আশা করছিলাম, এর সঙ্গে তার কোনো মিল ছিল না।
হাঙরটিকে ধরে নৌকায় তুলে সমুদ্রের পানিভর্তি একটি পাত্রে রাখা হয়। সেখানে এর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মাপা হয় এবং রক্ত ও টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী দুই রাতে একই ধরনের বৈশিষ্ট্যের আরও ১১টি হাঙর দেখতে পান গবেষকরা।
পরে জিনগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি সত্যিই নতুন একটি প্রজাতি। বিজ্ঞানীরা এর বৈজ্ঞানিক নাম দেন হেমিসাইলিয়াম ডাজিওনি। হাঙরের জিনগত বৈশিষ্ট্য ও বাস্তুতত্ত্ব নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা বিজ্ঞানী ডক্টর ডাজিয়নের সম্মানে এই নামকরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য হাঙরটিকে ‘কাদেদেকেদেওয়া’ নামে চেনেন। স্থানীয় ভাষায় যার অর্থ অনেকটা ‘কুকুর হাঙর’ বা ‘অলস হাঙর’। চারটি পাখনার সাহায্যে ধীরগতিতে হাঁটার কারণেই এমন নাম।
গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব দ্য ওশান সায়েন্স ফাউন্ডেশন-এ। গবেষকদের মতে, নতুন এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হাঁটা হাঙরের বিস্তৃতি আগে ধারণা করা অঞ্চলের চেয়েও অনেক বেশি।
জেস ব্লেকওয়ে বলেন, আগে মনে করা হতো নদী বা গভীর সমুদ্রের মতো প্রাকৃতিক বাধার কারণে প্রতিটি প্রজাতি আলাদা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে নতুন তথ্য বলছে, পূর্ব পাপুয়া নিউগিনিতে বিভিন্ন প্রজাতির বিস্তৃতি একে অপরের সঙ্গে মিলে গেলেও তারা একই স্থানে একসঙ্গে বসবাস করে না।
নতুন প্রজাতিটি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য আগামী অক্টোবর মাসে আবারও অভিযানে নামবেন গবেষকেরা। এরপর আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) মূল্যায়ন করবে, ডাজিয়নের হাঁটা হাঙরকে বিপন্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না।
সমুদ্রের অজানা জগৎ নিয়ে গবেষণা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন বিস্ময়। আর ডাজিয়নের হাঁটা হাঙরের আকস্মিক আবিষ্কার যেন সেই অজানার ভাণ্ডারে আরেকটি নতুন সংযোজন।
আরটিভি/এমএইচজে



