ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

মঙ্গলের উল্কাপিণ্ডে মিলল বিরল রত্নের সন্ধান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসে পড়া একটি বিরল উল্কাপিণ্ডের ভেতরে প্রথমবারের মতো গারনেটজাতীয় মূল্যবান খনিজের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার লাল গ্রহের প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

কানাডার রয়্যাল অন্টারিও জাদুঘরে সংরক্ষিত এনডব্লিউএ–৮১৭১ নামের উল্কাপিণ্ডটি পরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক গবেষক দল এর ভেতরে অ্যান্ড্রাডাইট নামে এক ধরনের গারনেট খনিজের ক্ষুদ্র কণা শনাক্ত করেছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সমীক্ষিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী জিওকেমিক্যাল পার্সপেকটিভস লেটার্স-এ।

আরও পড়ুন

গবেষকদের মতে, পৃথিবীতে অ্যান্ড্রাডাইট সাধারণত অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা, প্রবল চাপ কিংবা রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়। তাই মঙ্গলের একটি শিলাখণ্ডে এ ধরনের খনিজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অতীতে লাল গ্রহেও এমন পরিবেশ বা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সক্রিয় ছিল, যা বর্তমান মডেলগুলো পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না।

এনডব্লিউএ–৮১৭১ একটি ‘ব্রেচিয়া’ ধরনের শিলা, অর্থাৎ বিভিন্ন ভগ্নাংশ একত্রিত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, গারনেটটি সত্যিই মঙ্গলের নিজস্ব কি না, নাকি কোনো প্রাচীন গ্রহাণুর আঘাতে মহাকাশের অন্য কোথাও থেকে এসে মঙ্গলের পৃষ্ঠে মিশে গিয়েছিল।

গবেষণায় পাওয়া গারনেটের দানাগুলো ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র—প্রায় ০ দশমিক ৮ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার প্রস্থের। প্রথমে বিজ্ঞানীরা এগুলোকে মঙ্গলের শিলায় প্রচলিত পাইরক্সিন খনিজ বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী রাসায়নিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, এগুলো আসলে গারনেট। ফলে এনডব্লিউএ–৮১৭১ এখন পর্যন্ত একমাত্র পরিচিত মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ড, যাতে নিশ্চিতভাবে গারনেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞানী জেমস ডার্লিং এক বিবৃতিতে বলেন, এই আবিষ্কার মঙ্গলের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং প্রতিবেশী গ্রহটির বিবর্তন নিয়ে গবেষণার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাঁর মতে, এই গারনেটের মাধ্যমে মঙ্গলের ভূত্বকে অতীতে ঘটে যাওয়া তাপ, চাপ ও রাসায়নিক পরিবর্তনের নানা অধ্যায় সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

গবেষক দল মনে করছে, এনডব্লিউএ–৮১৭১ সম্ভবত মঙ্গলগ্রহের এমন একটি শিলার প্রতিনিধিত্ব করছে, যার অস্তিত্ব আগে জানা ছিল না। এটি গত সাড়ে চারশ কোটি বছরে মঙ্গল কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলগ্রহের উল্কাপিণ্ড অত্যন্ত বিরল। ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন সংগ্রহে থাকা কয়েক হাজার উল্কাপিণ্ডের মধ্যে মাত্র কয়েকশটিকে মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা নমুনা হিসেবে শনাক্ত করা গেছে। এগুলো কোনো এক সময় শক্তিশালী সংঘর্ষের ফলে মঙ্গল থেকে ছিটকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছেছে।

মঙ্গলের রোভার ও কক্ষপথযানগুলো দূর থেকে তথ্য পাঠালেও, উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর উন্নত গবেষণাগারে সরাসরি মঙ্গলগ্রহের পদার্থ বিশ্লেষণের সুযোগ পান। আর সেই বিশেষ তালিকায় নতুন সংযোজন এনডব্লিউএ–৮১৭১, যা প্রথমবারের মতো মঙ্গলের বুকে গারনেটের অস্তিত্বের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বহন করছে। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
মহাকাশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলে ধরে নতুন একটি গ্যালারি প্রকাশ করেছে নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি। এতে বিভিন্ন টেলিস্কোপের তথ্য মিলিয়ে তৈরি ১৬টি গ্যালাক্সির ছবি রয়েছে।
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিজে রূপান্তরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নাসার নেতৃত্বে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য খাদ্য তৈরির একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকেরা নতুন এই খাবারের নাম দিয়েছেন ‘µBites’। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে ফেলে দেওয়া পিইটি (PET) প্লাস্টিক (সাধারণত পানীয় ও পানির বোতল তৈরিতে যে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়)। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টার ডাঁটা ও পাতার মতো কৃষিজ বর্জ্য। গবেষণা প্রক্রিয়ায় পানি ও অক্সিজেন ব্যবহার করে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে বিশেষভাবে প্রস্তুত অণুজীবের সাহায্যে এসব উপাদানকে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়। আরও পড়ুন পৃথিবীতে মানুষের আগেও কি ছিল উন্নত সভ্যতা? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা এরপর থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ওই মিশ্রণকে কুকিজের আকার দেওয়া হয়। কুকিজের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়াতে আলাদাভাবে তৈরি ইস্টও ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের তৈরি এক ধরনের ইস্ট উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে সরাসরি ভ্যানিলার স্বাদ তৈরি করতে পারে। অন্য একটি ইস্ট পিইটি প্লাস্টিকে থাকা ইথিলিন গ্লাইকোলকে বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। গবেষক দল জানিয়েছে, ‘µBites’ খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। এর আগে পরিচালিত গন্ধ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পদের সংকট রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে তারা এই কুকিজ খেতে রাজি। গবেষক লাহিরু জয়াকোডি জানান, ভবিষ্যতে কুকিজে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টিকারক উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো সাধারণ মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার আশা করছেন তারা। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবিক সংকটের সময় খাদ্যসংকট মোকাবিলা, সীমিত সম্পদের পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বর্জ্যকে পুষ্টিকর খাবারে রূপান্তরের এই প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষ যে বর্জ্য তৈরি করছে, অণুজীবের সাহায্যে সেটিকেই আবার খাদ্যের উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস আরটিভি/এমএইচজে
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের স্মৃতি এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে আকাশে আজ রাতে শুরু হচ্ছে আরেক বৈচিত্র্যময় মহাজাগতিক ঘটনা—আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সর্বোচ্চ মুহূর্তে পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে গিয়ে এটি রূপ নেবে এক ম্লান কমলা ও রক্তিম আভায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের আকাশজুড়ে দৃশ্যমান হবে। সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলো থেকে সরাসরি খালি চোখে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। আকাশে চাঁদের উদয় ও গ্রহণের মূল সময়সূচির তারতম্যের কারণেই বাংলাদেশিরা এই বিরল দৃশ্যের দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, আজ রাতে চাঁদ যখন পৃথিবীর গভীর ছায়াবলয়ে প্রবেশ করতে শুরু করবে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় থাকবে দিনের আলো কিংবা চাঁদের অবস্থান থাকবে দিগন্তের নিচে। সর্বোচ্চ গ্রহণের সময়ে পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় চাঁদের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে গিয়ে যে 'রক্তিম আভা' বা বিশেষ রূপ তৈরি হবে, তা দেখার সুযোগ পাবেন মূলত পশ্চিম গোলার্ধের মানুষ। আরও পড়ুন আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৯টা ২৩ মিনিটে গ্রহণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আসল দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করবে রাত ১০টা ৩৩ মিনিট থেকে। গভীর রাতে, অর্থাৎ ২৮ আগস্ট মধ্যরাত ১২টা ১৩ মিনিটে গ্রহণটি তার চূড়ান্ত রূপ নেবে। সে সময় চাঁদের একটি সরু অংশ ছাড়া পুরোটাই ঢেকে যাবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায়। একই সময়ে আকাশে উদয় ঘটবে চলতি আগস্ট মাসের বিশেষ পূর্ণিমার, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘স্টার্জন মুন’ নামে পরিচিত। উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের অধিবাসীরা কোনো ধরনের চোখের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই খালি চোখে দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করতে পারবেন আকাশের এই বিরল রূপ। আর বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগী ও সাধারণ মানুষকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নির্ভর করতে হবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সরাসরি অনলাইন সম্প্রচারের ওপর। আরটিভি/এআর 
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহ পর বিশ্ব আরও একটি মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে।  বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। যেখানে গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশই পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০:১২ মিনিটে এই গ্রহণ তার সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মূল দৃশ্যটি সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলো থেকে। পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় এর কিছুটা উপভোগ করা যাবে। আরও পড়ুন সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ১১ তথ্য, যা অনেকেই জানেন না চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে অন্ধকার ছায়ায় ঢেকে গেলেও সূর্যালোক আমাদের বায়ুমণ্ডল ভেদ করে কিছুটা প্রতিফলিত হবে। ফলে চাঁদ পুরোপুরি অদৃশ্য না হয়ে তামাটে বা লালচে বর্ণ ধারণ করবে, যাকে অনেকেই রূপক অর্থে ‘ব্লাড মুন’ বলেন। পুরো চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চললেও এর আসল সৌন্দর্য অর্থাৎ চাঁদের এই লালচে ভাবটি অল্প কিছুক্ষণের জন্যই স্থায়ী হবে। এদিকে সূর্যগ্রহণের বিপরীতে, চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে নিরাপদে দেখা যায়। এই চন্দ্রগ্রহণের আগে ঘটেছিল একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ওই সূর্যগ্রহণ স্পেন, পর্তুগালের একটি ছোট অংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং উত্তর রাশিয়ার আকাশ অন্ধকার করে দিয়েছিল। পরবর্তী সূর্যগ্রহণ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি, যা দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে। পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে ২০ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির রাতজুড়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে দেখা যাওয়ার কথা। আরটিভি/এসআর
আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে
দুদিন পরেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে
আগামী ২৮ আগস্ট আকাশে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম সেরা বৈচিত্র্যময় মহাজাগতিক মুহূর্ত। ওই দিন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করায় বিশ্ববাসী এক বিরল গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে। সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্যাবলি। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা চাঁদের এই রূপ সরাসরি দেখতে পাবেন। আগামী ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত থেকে ২৮ আগস্ট শুক্রবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। এই সময়ে পৃথিবীর ঘন ছায়া চাঁদের উপরিভাগের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে ফেলবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাবমতে, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে) আংশিক গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়টি দৃশ্যমান হবে। আমেরিকা অঞ্চলের মানুষ ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারলেও ইউরোপ ও আফ্রিকার মানুষ সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের নির্দিষ্ট মুহূর্তে আংশিক রূপটি দেখতে পাবেন। আরও পড়ুন পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর এবার আসছে বিরল ‘ব্লাড মুন’ পুরো চাঁদ এবার ঢাকা না পড়লেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার ফলে চাঁদের ঢেকে যাওয়া অংশটি গাঢ় লাল বা তামাটে আভা ধারণ করবে। এই রক্তিম দৃশ্যের কারণে একে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বলা হচ্ছে। চন্দ্রগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিস্তৃত থাকবে, তবে চাঁদের তামাটে রূপের স্থায়িত্ব হবে কিছুটা কম। গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের আকাশে ঘটে যাওয়া পূর্ণ সূর্যগ্রহণের ঠিক দুই সপ্তাহ পরই একই সরলরেখায় পৃথিবীর অবস্থানের কারণে এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণের মতো এই চন্দ্রগ্রহণ দেখতে চোখের কোনো বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে, তবে বাইনোকুলার বা সাধারণ টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট ধরা দেবে। আরটিভি/এআর 
দুদিন পরেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে
আরও পড়ুন
শ্রীমঙ্গলে ধানক্ষেত থেকে অজগর উদ্ধার
মঙ্গলবার টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
প্রধানমন্ত্রীর রেইনকোট উপহারে চা-বাগানে আনন্দ-উচ্ছ্বাস
মঙ্গলবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়