পদার্থবিজ্ঞানকে বলা হয় প্রকৃতিকে বোঝার বিজ্ঞান। ক্ষুদ্র পরমাণু থেকে বিশাল মহাবিশ্ব—সবকিছুই এই বিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা কীভাবে হলো এবং এর জনক কে—এ প্রশ্নের উত্তর এতটা সহজ নয়।
অনেকে পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গ্যালিলিও গ্যালিলি, আইজ্যাক নিউটন বা আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম জানেন। তবে ইতিহাস বলছে, এককভাবে কাউকেই পুরো পদার্থবিজ্ঞানের জনক বলা যায় না।
বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন বিজ্ঞানীদের একজন ছিলেন অ্যারিস্টটল। তিনি প্রকৃতি নিয়ে নানা গবেষণা করেছিলেন। তবে সে সময় বিজ্ঞানকে বলা হতো প্রাকৃতিক দর্শন।
পরবর্তীতে ইতালির বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম পরীক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রচলন করেন। পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিজে পরীক্ষা করে ফলাফল যাচাই করতেন। এ কারণেই তাঁকে পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
এরপর পদার্থবিজ্ঞানে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন আইজ্যাক নিউটন। গতির সূত্র, মহাকর্ষ এবং আলোকবিজ্ঞানে তাঁর গবেষণা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে। তাই অনেক ইতিহাসবিদ তাঁকেই পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আলবার্ট আইনস্টাইন মহাকর্ষ, স্থান-কাল, ভর ও শক্তির সম্পর্ক নিয়ে নতুন ধারণা দিয়ে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটান। তাই তাঁকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
এদিকে ইউরোপের অন্ধকার যুগে আরব বিজ্ঞানীরাও বিজ্ঞানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে আল হাসান ইবনে আল হাইসাম (আলহাজেন) আলোকবিজ্ঞানে অসাধারণ অবদান রাখেন। এজন্য তাঁকে আলোক পদার্থবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদার্থবিজ্ঞান কোনো একজন মানুষের হাতে গড়ে ওঠেনি। শত শত বছর ধরে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য বিজ্ঞানীর গবেষণা ও আবিষ্কারের ফলেই আজকের আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে। তাই গ্যালিলিও, নিউটন ও আইনস্টাইন—প্রত্যেকেই এই বিজ্ঞানের বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন।
আরটিভি/জেএমএ




