ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কারাতে, কুংফু নাকি জুডো? কোনটি শিখবেন, জানুন পার্থক্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
কারাতে, কুংফু নাকি জুডোর মধ্যে পার্থক্য জানুন, কোনটি আপনার জন্য সেরা । ছবি: সংগৃহীত

আত্মরক্ষার কৌশল শেখার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও তরুণদের মধ্যে মার্শাল আর্ট শেখার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবে অনেকেই কারাতে, কুংফু ও জুডোকে একই ধরনের খেলা মনে করেন। বাস্তবে এই তিনটি মার্শাল আর্টের ইতিহাস, কৌশল ও বৈশিষ্ট্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।

কুংফুর ইতিহাস কোথা থেকে?

কুংফু হলো চীনের প্রাচীন মার্শাল আর্ট। এর সূচনা হয় খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে চীনের শাওলিন মন্দিরে। ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু বোধিধর্ম শাওলিন মন্দিরে ধ্যান ও আত্মরক্ষার যে কৌশল শেখান, তা-ই পরবর্তী সময়ে কুংফুর ভিত্তি তৈরি করে।

পরে এই যুদ্ধকৌশল বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

জুডো কী?

জুডো জাপানের একটি আধুনিক মার্শাল আর্ট। ১৮৮২ সালে ডক্টর কানো জিগোরো এটি প্রবর্তন করেন। জুডো শব্দের অর্থ নরম পথ বা সহজ কৌশল। এখানে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার চেয়ে কৌশলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কারাতে কেন আলাদা?

কারাতে জাপানি শব্দ। এর অর্থ খালি হাত। অর্থাৎ অস্ত্র ছাড়া হাত-পা ব্যবহার করে আত্মরক্ষার কৌশলই কারাতে।

আরও পড়ুন

যদিও এটি জাপানের মার্শাল আর্ট হিসেবে পরিচিত, ইতিহাস বলছে এর শিকড়ও বোধিধর্মের আত্মরক্ষার কৌশলের সঙ্গে জড়িত। পরে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে স্থানীয় যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে এই পদ্ধতির মিশেলে আধুনিক কারাতের বিকাশ ঘটে।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার গল্প

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ওকিনাওয়ায় বিদেশি সেনাদের মাধ্যমে কারাতে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ষাট ও সত্তরের দশকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মার্শাল আর্টে পরিণত হয় কারাতে।

একই সময়ে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও কারাতে শিক্ষা চালু হয়। ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া হিসেবেও স্বীকৃতি পায়।

কেন শিখবেন কারাতে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাতে শুধু আত্মরক্ষার কৌশল নয়, এটি শরীর ও মন—দুইয়েরই উন্নতি ঘটায়।

কারাতে শেখার মাধ্যমে—

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
২. শারীরিক সক্ষমতা উন্নত হয়।
৩. হাত ও পায়ের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. মনোযোগ ও নিয়মানুবর্তিতা গড়ে ওঠে।
৫. বিপদের সময় আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরি হয়।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে নারী ও শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার জন্য কারাতে শেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশিক্ষকরা।

প্রশিক্ষণের শুরুতেই যা শেখানো হয়

কারাতে শেখার আগে শরীর গরম করার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়।

এর মধ্যে অন্যতম একটি কৌশল হলো লাজুইক। এতে হাতের তালু সোজা রেখে আঘাত করার অনুশীলন করা হয়। এই অনুশীলনের মাধ্যমে আঙুল, কবজি, বাহু ও কাঁধের শক্তি বাড়ে। প্রতিটি কৌশল বারবার অনুশীলনের মাধ্যমেই দক্ষতা অর্জন করতে হয়।

বেল্ট অর্জনের পথও সহজ নয়

কারাতে শেখার প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা বেল্ট। সাদা বেল্ট দিয়ে শুরু হলেও কঠোর অনুশীলন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হয়।

সবচেয়ে সম্মানজনক ধাপ হলো কালো বেল্ট, যা একজন দক্ষ কারাতে অনুশীলনকারীর পরিচয় বহন করে।

নিয়মিত অনুশীলনই সফলতার চাবিকাঠি

কারাতে একদিনে শেখা যায় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের বিষয়। প্রশিক্ষকদের মতে, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে যে কেউ দক্ষ মার্শাল আর্ট অনুশীলনকারী হয়ে উঠতে পারেন।

শুধু খেলা হিসেবে নয়, আত্মরক্ষা, শৃঙ্খলা ও সুস্থ জীবন গড়ার জন্যও কারাতে আজ বিশ্বজুড়ে সমান জনপ্রিয়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে