ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কারাতে, কুংফু নাকি জুডো? কোনটি শিখবেন, জানুন পার্থক্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
কারাতে, কুংফু নাকি জুডোর মধ্যে পার্থক্য জানুন, কোনটি আপনার জন্য সেরা । ছবি: সংগৃহীত

আত্মরক্ষার কৌশল শেখার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও তরুণদের মধ্যে মার্শাল আর্ট শেখার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবে অনেকেই কারাতে, কুংফু ও জুডোকে একই ধরনের খেলা মনে করেন। বাস্তবে এই তিনটি মার্শাল আর্টের ইতিহাস, কৌশল ও বৈশিষ্ট্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।

কুংফুর ইতিহাস কোথা থেকে?

কুংফু হলো চীনের প্রাচীন মার্শাল আর্ট। এর সূচনা হয় খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে চীনের শাওলিন মন্দিরে। ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু বোধিধর্ম শাওলিন মন্দিরে ধ্যান ও আত্মরক্ষার যে কৌশল শেখান, তা-ই পরবর্তী সময়ে কুংফুর ভিত্তি তৈরি করে।

পরে এই যুদ্ধকৌশল বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

জুডো কী?

জুডো জাপানের একটি আধুনিক মার্শাল আর্ট। ১৮৮২ সালে ডক্টর কানো জিগোরো এটি প্রবর্তন করেন। জুডো শব্দের অর্থ নরম পথ বা সহজ কৌশল। এখানে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার চেয়ে কৌশলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কারাতে কেন আলাদা?

কারাতে জাপানি শব্দ। এর অর্থ খালি হাত। অর্থাৎ অস্ত্র ছাড়া হাত-পা ব্যবহার করে আত্মরক্ষার কৌশলই কারাতে।

আরও পড়ুন

যদিও এটি জাপানের মার্শাল আর্ট হিসেবে পরিচিত, ইতিহাস বলছে এর শিকড়ও বোধিধর্মের আত্মরক্ষার কৌশলের সঙ্গে জড়িত। পরে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে স্থানীয় যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে এই পদ্ধতির মিশেলে আধুনিক কারাতের বিকাশ ঘটে।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার গল্প

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ওকিনাওয়ায় বিদেশি সেনাদের মাধ্যমে কারাতে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ষাট ও সত্তরের দশকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মার্শাল আর্টে পরিণত হয় কারাতে।

একই সময়ে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও কারাতে শিক্ষা চালু হয়। ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া হিসেবেও স্বীকৃতি পায়।

কেন শিখবেন কারাতে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাতে শুধু আত্মরক্ষার কৌশল নয়, এটি শরীর ও মন—দুইয়েরই উন্নতি ঘটায়।

কারাতে শেখার মাধ্যমে—

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
২. শারীরিক সক্ষমতা উন্নত হয়।
৩. হাত ও পায়ের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. মনোযোগ ও নিয়মানুবর্তিতা গড়ে ওঠে।
৫. বিপদের সময় আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরি হয়।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে নারী ও শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার জন্য কারাতে শেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশিক্ষকরা।

প্রশিক্ষণের শুরুতেই যা শেখানো হয়

কারাতে শেখার আগে শরীর গরম করার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়।

এর মধ্যে অন্যতম একটি কৌশল হলো লাজুইক। এতে হাতের তালু সোজা রেখে আঘাত করার অনুশীলন করা হয়। এই অনুশীলনের মাধ্যমে আঙুল, কবজি, বাহু ও কাঁধের শক্তি বাড়ে। প্রতিটি কৌশল বারবার অনুশীলনের মাধ্যমেই দক্ষতা অর্জন করতে হয়।

বেল্ট অর্জনের পথও সহজ নয়

কারাতে শেখার প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা বেল্ট। সাদা বেল্ট দিয়ে শুরু হলেও কঠোর অনুশীলন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হয়।

সবচেয়ে সম্মানজনক ধাপ হলো কালো বেল্ট, যা একজন দক্ষ কারাতে অনুশীলনকারীর পরিচয় বহন করে।

নিয়মিত অনুশীলনই সফলতার চাবিকাঠি

কারাতে একদিনে শেখা যায় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের বিষয়। প্রশিক্ষকদের মতে, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে যে কেউ দক্ষ মার্শাল আর্ট অনুশীলনকারী হয়ে উঠতে পারেন।

শুধু খেলা হিসেবে নয়, আত্মরক্ষা, শৃঙ্খলা ও সুস্থ জীবন গড়ার জন্যও কারাতে আজ বিশ্বজুড়ে সমান জনপ্রিয়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
রাতে ঘুম কম, সকালে মাথাব্যথা? যেভাবে মিলবে স্বস্তি 
রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি, সকালে উঠেই মাথা ভার বা ব্যথা। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়।
রাতে ঘুম কম, সকালে মাথাব্যথা? যেভাবে মিলবে স্বস্তি 
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
সকালের শুরুতে এক কাপ গরম চা বা কফি অনেকেরই পছন্দ। কেউ আবার দিনের বিভিন্ন সময়ে গরম পানীয় পান করতে অভ্যস্ত।
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
মাত্র ১০ মিনিটেই করুন পুরো শরীরের ব্যায়াম
ব্যায়াম করার সময় নেই—এমনটা মনে করার আর কারণ নেই। মাত্র ১০ মিনিট সময় এবং এক জোড়া ডাম্বেল থাকলেই পুরো শরীরের ভালো একটি ব্যায়াম করা সম্ভব।
মাত্র ১০ মিনিটেই করুন পুরো শরীরের ব্যায়াম
সিরাম ছাড়াই ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখার উপায়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক টানটান ভাব কমতে শুরু করে। মুখে ও চোখের নিচে ভাঁজ পড়া, ত্বক কুঁচকে যাওয়া এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। এসব সমস্যা কমাতে বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সিরাম ব্যবহার করেন।
সিরাম ছাড়াই ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখার উপায়