সুন্দরবনের হরিণ শিকারের ফাঁদ থেকে রোববার (৪ জানুয়ারি) উদ্ধার করা বাঘটি বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বন বিভাগের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে, ধীরে ধীরে বাঘটির অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বাঘটি প্রাথমিক অবস্থায় অত্যন্ত দুর্বল থাকলেও চিকিৎসার পর পানি ও খাবার গ্রহণ শুরু করেছে। ধীরে ধীরে এর ভেতর বন্য ক্ষিপ্রতা আসতে শুরু করেছে।
পোস্টে বলা হয়, বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন বাঘটি সম্পূর্ণ শংকামুক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে ঢাকা হতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে খুলনা পৌঁছে এবং আহত বাঘটিকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে।
আজ সকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে বাঘটির অবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ দেয়। ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘের সামনের বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাঘটির চলনভঙ্গি দেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ধারণা করছে যে, বাঘটির কোন হাড় ভাঙেনি, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আশা প্রকাশ করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাঘটি সুস্থ হয়ে বনে ফিরে যেতে পারবে। তবে বর্তমানে এটির ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়া চলছে বিধায় বাঘটি কাছে মানুষের সমাগম হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি বন্য প্রাণী যা কখনো মানুষের সংস্পর্শে আসেনি, তাই এটিকে সুস্থ করতে হলে এর থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- প্রফেসর ড. মো. গোলাম হায়দার, ভেটেরিনারি অনুষদ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। ডক্টর মো. গোলাম আযম চৌধুরী, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার (সিডিআইএল), ঢাকা। ডা. নাজমুল হুদা, এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার, সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ঢাকা।
আরটিভি/এমএ




