এবার রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ১০:২১ পিএম


এবার রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে উত্তাল পুরো দেশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবি তুলেছেন দেশের সাধারণ মানুষ থেকে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা। এবার রামিসা হত্যাকাণ্ড কথা বলেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট করেছেন তিনি।

পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী লিখেছেন, কিছু অপরাধ শুধু আইন ভঙ্গ করে না, মানবতাকেও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। একটি কন্যা শিশুর নির্মম বিদায় আজ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে! যার বিচার শুধু আইনের নয়, গোটা মানবতার দাবি। 

অপরাধীর শাস্তি চেয়ে তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যতের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্মমতার দ্রুত বিচার ও কঠোরতম শাস্তি এখন সময়েরও দাবি। কেবলমাত্র আল্লাহর আইনই পারে এসব বর্বরতা নির্মূল করতে।

আরও পড়ুন

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কাটে। 

এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এরপর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন।

শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে গেলেও তার আগেই সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। 

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এরই মধ্যে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission