ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১০ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, লাইভে হিসাব দিলেন হাসনাত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক লাইভে এসে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রায় ৪৩ মিনিটের ওই লাইভে নিজ উপজেলা দেবীদ্বারে বরাদ্দ সংক্রান্ত বিভিন্ন হিসাব উপস্থাপনের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৩১ মে) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইভে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

মিডিয়া মাফিয়ার আয়নাবাজি শিরোনামে ওই লাইভের শুরুতেই হাসনাত বলেন, বাংলাদেশের মিডিয়া মাফিয়া কিভাবে কাজ করে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে লাইভে এসেছি। বাংলাদেশের মিডিয়া কিভাবে আপনার কনসার্নকে ম্যানুফ্যাকচার করে, আপনার মতামতকে প্রভাবিত করে আপনার অবচেতন মনে এক ধরনের ধারণা তৈরি করে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে, কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, কোনো বিশেষ আদর্শ সম্পর্কে।

এনসিপির এ নেতা বলেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপির পার্থক্য না বুঝে একজন রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অর্থ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মাঝরাতের ওই ফেসবুক লাইভে ১৪৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার হিসাব দেন হাসনাত।

তিনি বলেন, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন, মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির এ নেতা বলেন, এখানে তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে আছে। এটি চাইলে যে কেউ দেখতে পারে। আমি আগেও যেসব বাজেটে এসেছে, সব হিসাব লাইভে এসে দিয়েছি।

আরও পড়ুন

হাসনাত আরও বলেন, ১০ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে। আমি যখন নির্বাচিত হইনি, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব নিজস্বসহ সব মিলিয়ে আট কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রজেক্ট দেবীদ্বারে দেওয়া হয়েছে। এক টাকা কম না, এক টাকা বেশি না। ১৪৮টি খাতে এসব প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে। একটা প্রজেক্টও পূর্ণাঙ্গ কমপ্লিট হয়নি। এগুলো আপনারা অনলাইনে গেলেই দেখতে পাবেন।

তিনি বলেন, অথচ জেলা পরিষদের প্রশাসক বললেন আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। গত দুই দিন মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হলো আমরা টাকা নিয়ে গিয়েছি, টাকার কথা মানুষের কাছে লুকিয়েছি। এটা তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে। ইটস ভেরি ওপেন, ব্রড ডেলাইট ওপেন।

কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা প্রপাগান্ডা করেছেন, আপনাদের যদি চর্মচক্ষু থাকে এবং একটু জ্ঞানবুদ্ধি থাকে শুধু ইন্টারনেটে সার্চ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কোন খাতে কয় টাকা এবং কোন প্রক্রিয়ায় গেছে-চাইলেই সব কিছু বের করা সম্ভব।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আমার এলাকার যতগুলা বরাদ্দ বাজেট এসেছে সম্প্রতি লাইভে সবগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছি। এমনটি আমার পেজ ‘জবাবদিহিতা’য় প্রতিনিয়ত আপডেট জানানো হয়। সবার বাসায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আছে। সার্চ করলেই যে কেউ ডিটেইল (বিস্তারিত) দেখতে পারেন। এখন এটাকে যেভাবে ফ্রেমিং করা হলো এটা খুবই দুঃখজনক।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যা দেশ জুড়ে তোলপার সৃষ্টি করে। পরে ওই বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাবাদ আবদুল্লাহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে ফোন করে জানতে চাইলে মোস্তাক মিয়া উন্নয়ন কাজে নেওয়া হয়েছে বলে জানান। কেউ ব্যক্তিগতভাবে সে টাকা নিয়ে গেছে সেটা তিনি বলেননি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সারজিস শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে: রাশেদ খান
সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে! শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে? মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যার চুলের স্পাইক পর্যন্ত নষ্ট হয়নি, পাঞ্জাবির আয়রনের ভাঁজ পর্যন্ত ভাঙেনি, ডিবি অফিসে জুস খেতে খেতে যে ঘটনাচক্রে নেতা হয়ে গেছে, সেও আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা নাকি ১৮ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করে সরকার পতন না ঘটিয়ে শুধুমাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি! তিনি বলেন, আচ্ছা ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পরে আমরা যেসময় শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মাইর খেয়েছি, তখন এই সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে! প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরো বলেন, জুলাই গাদ্দার সারজিস আলম শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে, এটা কি জাতি ভুলে গেছে? জাতি কি ভুলে গেছে, নাহিদ-আসিফকে তুলে নেওয়া কিংবা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পরেও কারফিউয়ের মধ্যে সারজিস-হাসনাত গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ি করে ঘুরে বেড়িয়েছে! আরটিভি/এসকে
সারজিস শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে: রাশেদ খান
‘কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
‘কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা’
‘জুলাই গণহত্যার বিচারের ভয়েই প্রবাসে বসে উসকানি-সন্ত্রাস চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ’
জুলাই গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকেই আওয়ামী লীগ প্রবাসে বসে উসকানি, অপপ্রচার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
‘জুলাই গণহত্যার বিচারের ভয়েই প্রবাসে বসে উসকানি-সন্ত্রাস চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ’
‘শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
‘শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে’
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছে, তার দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির
আরও পড়ুন
মক্কা-মদিনাকে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী ফেসবুক পোস্ট
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে নতুন যে নিষেধাজ্ঞা দিলো মেটা
মৌলভীবাজারে এনসিপির ২ নেতাকে বহিষ্কার
চাঁদপুরে জাল টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার