বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত। সমর্থকদের ট্রল, মজার ছবি, ঠাট্টা আর নানা ধরনের পোস্টে ভরে যায় বিভিন্ন মাধ্যম। এবার সেই ট্রলই জায়গা করে নিয়েছে গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলেও।
সম্প্রতি অনেক ব্যবহারকারী দেখেছেন, গুগলে ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখে খুঁজলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের তথ্য দেখা যাচ্ছে। আবার ‘৭ আপ খাওয়া দল’ লিখে খুঁজলে অনেকের কাছে ব্রাজিল বা ব্রাজিল–জার্মানি ম্যাচের তথ্য উঠে আসছে। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, গুগল কি সত্যিই কোনো দলকে এমন নাম দিয়েছে?
এর উত্তর হলো—না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল কোনো ফুটবল দলকে ‘চোরের দল’, ‘৭ আপ’ বা এ ধরনের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে না। গুগলের অনুসন্ধান ব্যবস্থা ইন্টারনেটে থাকা অসংখ্য লেখা, ছবি, ভিডিও, সংবাদ এবং মানুষের খোঁজার ধরন বিশ্লেষণ করে কোন শব্দের সঙ্গে কোন বিষয় বেশি সম্পর্কিত, তা বোঝার চেষ্টা করে।
দীর্ঘদিন ধরে যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে একটি দলকে উল্লেখ করেন, সেই শব্দ লিখে খোঁজেন, খবর পড়েন বা ভিডিও দেখেন, তাহলে গুগলের অনুসন্ধান ব্যবস্থা সেই সম্পর্ক শনাক্ত করতে পারে। ফলে ওই শব্দ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট দল বা ম্যাচের তথ্য সামনে চলে আসতে পারে।
‘৭ আপ’ ট্রলের শুরু ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে। ওই আসরের সেমিফাইনালে নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ৭–১ গোলের বড় ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। এরপর থেকেই প্রতিপক্ষ সমর্থকেরা ব্যঙ্গ করে ব্রাজিলকে ‘৭ আপ’ নামে উল্লেখ করতে শুরু করেন। কোমল পানীয়ের নামের সঙ্গে সাত সংখ্যার মিল থেকেই এই ট্রল জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে ‘চোরের দল’ ধরনের ট্রলের পেছনে রয়েছে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা গোল’ ফুটবল ইতিহাসে এখনো আলোচিত। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক শব্দ ব্যবহার করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব শব্দের ব্যাপক ব্যবহারের প্রভাবও অনুসন্ধান ফলাফলে দেখা যেতে পারে।
তবে গুগল নিজে এসব নাম তৈরি করে না। এর কাজ হলো ব্যবহারকারীদের অনুসন্ধানের ধরন এবং ইন্টারনেটে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেখানো। তাই কোনো শব্দ দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে বেশি ব্যবহার হলে সেই সম্পর্ক অনুসন্ধান ফলাফলে উঠে আসতে পারে।
তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফলাফল দেখা যায় না। কারণ অনুসন্ধানের ফল নির্ভর করে ব্যবহারকারীর অবস্থান, ভাষা, আগের অনুসন্ধান, চলমান প্রবণতা, ব্যবহৃত যন্ত্র এবং ব্যক্তিগত সেটিংসের ওপর। তাই একজন যে ফলাফল দেখছেন, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের সময় কোটি কোটি মানুষ একই ধরনের বিষয় নিয়ে খোঁজ করেন, পোস্ট দেন এবং ভিডিও দেখেন। ফলে বিভিন্ন ট্রল খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই বিপুল ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করেই গুগলের অনুসন্ধান ব্যবস্থা নতুন নতুন সম্পর্ক শনাক্ত করে। তাই বিশ্বকাপের সময় এমন ব্যতিক্রমী অনুসন্ধান ফলাফল বেশি দেখা যায়।
আরটিভি/জেএমএ



