ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গুগল সার্চে ‘চোরের দল’ বা ‘৭ আপ’ এসব ট্রেন্ড হল কীভাবে 

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
গুগল সার্চে ‘চোরের দল’ বা ‘৭ আপ’ এসব ট্রেন্ড হল কীভাবে  । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত। সমর্থকদের ট্রল, মজার ছবি, ঠাট্টা আর নানা ধরনের পোস্টে ভরে যায় বিভিন্ন মাধ্যম। এবার সেই ট্রলই জায়গা করে নিয়েছে গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলেও।

সম্প্রতি অনেক ব্যবহারকারী দেখেছেন, গুগলে ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখে খুঁজলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের তথ্য দেখা যাচ্ছে। আবার ‘৭ আপ খাওয়া দল’ লিখে খুঁজলে অনেকের কাছে ব্রাজিল বা ব্রাজিল–জার্মানি ম্যাচের তথ্য উঠে আসছে। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, গুগল কি সত্যিই কোনো দলকে এমন নাম দিয়েছে?

এর উত্তর হলো—না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল কোনো ফুটবল দলকে ‘চোরের দল’, ‘৭ আপ’ বা এ ধরনের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে না। গুগলের অনুসন্ধান ব্যবস্থা ইন্টারনেটে থাকা অসংখ্য লেখা, ছবি, ভিডিও, সংবাদ এবং মানুষের খোঁজার ধরন বিশ্লেষণ করে কোন শব্দের সঙ্গে কোন বিষয় বেশি সম্পর্কিত, তা বোঝার চেষ্টা করে।

দীর্ঘদিন ধরে যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে একটি দলকে উল্লেখ করেন, সেই শব্দ লিখে খোঁজেন, খবর পড়েন বা ভিডিও দেখেন, তাহলে গুগলের অনুসন্ধান ব্যবস্থা সেই সম্পর্ক শনাক্ত করতে পারে। ফলে ওই শব্দ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট দল বা ম্যাচের তথ্য সামনে চলে আসতে পারে।

আরও পড়ুন

‘৭ আপ’ ট্রলের শুরু ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে। ওই আসরের সেমিফাইনালে নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ৭–১ গোলের বড় ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। এরপর থেকেই প্রতিপক্ষ সমর্থকেরা ব্যঙ্গ করে ব্রাজিলকে ‘৭ আপ’ নামে উল্লেখ করতে শুরু করেন। কোমল পানীয়ের নামের সঙ্গে সাত সংখ্যার মিল থেকেই এই ট্রল জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে ‘চোরের দল’ ধরনের ট্রলের পেছনে রয়েছে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা গোল’ ফুটবল ইতিহাসে এখনো আলোচিত। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক শব্দ ব্যবহার করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব শব্দের ব্যাপক ব্যবহারের প্রভাবও অনুসন্ধান ফলাফলে দেখা যেতে পারে।

তবে গুগল নিজে এসব নাম তৈরি করে না। এর কাজ হলো ব্যবহারকারীদের অনুসন্ধানের ধরন এবং ইন্টারনেটে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেখানো। তাই কোনো শব্দ দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে বেশি ব্যবহার হলে সেই সম্পর্ক অনুসন্ধান ফলাফলে উঠে আসতে পারে।

তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফলাফল দেখা যায় না। কারণ অনুসন্ধানের ফল নির্ভর করে ব্যবহারকারীর অবস্থান, ভাষা, আগের অনুসন্ধান, চলমান প্রবণতা, ব্যবহৃত যন্ত্র এবং ব্যক্তিগত সেটিংসের ওপর। তাই একজন যে ফলাফল দেখছেন, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের সময় কোটি কোটি মানুষ একই ধরনের বিষয় নিয়ে খোঁজ করেন, পোস্ট দেন এবং ভিডিও দেখেন। ফলে বিভিন্ন ট্রল খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই বিপুল ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করেই গুগলের অনুসন্ধান ব্যবস্থা নতুন নতুন সম্পর্ক শনাক্ত করে। তাই বিশ্বকাপের সময় এমন ব্যতিক্রমী অনুসন্ধান ফলাফল বেশি দেখা যায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাঝ আকাশে বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারি
যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে মাঝআকাশে একটি বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফ্লাইট চলাকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই যাত্রী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
মাঝ আকাশে বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারি
কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও চুল কর্তন
পূর্ব বিরোধের জের ধরে সুনামগঞ্জে মধ্যবয়সী এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও জোর করে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। চুল কর্তন ও নির্যাতনের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা (৫০)। 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও চুল কর্তন
চেয়ারম্যান হলে ফ্রি গাঁজা-ইয়াবা বিতরণের ঘোষণা যুবকের! যা জানা যাচ্ছে
‘আমি চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’ এমন ঘোষণা সম্বলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়ন।
চেয়ারম্যান হলে ফ্রি গাঁজা-ইয়াবা বিতরণের ঘোষণা যুবকের! যা জানা যাচ্ছে
বিশ্বকাপের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল
সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে টাইগারদের ভারতে না পাঠানোর জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। যা এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। এর মাঝেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি? ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।  ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই। আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মোস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন? আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল। আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী । মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না। এদিকে তদন্ত কমিটির দাবি, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি। এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছে কমিটি। আরটিভি/এসআর  
বিশ্বকাপের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল
কক্সবাজারে হচ্ছে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়
কক্সবাজারে ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউবিইএসটি)’ নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কক্সবাজারে হচ্ছে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন
গুগল সার্চে বড় পরিবর্তন, এআই-নির্ভর নতুন যুগের সূচনা
কমিক স্টাইলের নতুন ট্রেন্ডে মজেছে নেটিজেনরা