একদিকে যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে ঘরবাড়ি, ছিন্নভিন্ন করেছে স্বাভাবিক জীবন। তার ওপর তীব্র পানির সংকটে দিন কাটছে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষের। চারপাশে শুধু নোনাজল, তাই এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানির জন্য ছিল তীব্র হাহাকার। এমন সময় সমুদ্রের মাত্র কয়েক মিটার দূরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেলো মিঠা পানির সন্ধান। তবে প্রথমে অনেকে বলছিলেন সমুদ্রের এত কাছাকাছি জায়গায় পাওয়া যাবে না খাওয়ার উপযোগী পানি। কিন্তু এই ফিলিস্তিনি ব্যক্তি যেন খুজে পেলেন সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক উপহার। যা ছিল একেবারে অবিশ্বাস্য, সেটিই এখন গাজার এই শিবিরের শিশুদের কাছে হয়ে উঠেছে জীবন বাঁচানোর একমাত্র হাতিয়ার।
উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বর্তমানে উপকূলের একটি শিবিরে কোনোমতে দিন কাটছে জায়েদের। তিনিই হাতে নেন এই মিঠা পানির কূপ খননের উদ্যোগ। শুরুতে তাকে গুরুত্ব দেননি কেউই। কারণ সমুদ্র থেকে মাত্র চার মিটার দূরে খনন করা কূপ থেকে মিঠা পানি পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করেছিলেন আশপাশের মানুষ। এটিকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেছিল অনেকে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই কূপ থেকেই বেরিয়ে আসে ব্যবহার উপযোগী মিষ্টি পানি। যা ছিল অসহায় ওই মানুষগুলোর কাছে নিঃসন্দেহে সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক দান।
জায়েদের মতে, এই কূপ হয়তো পুরো সংকটের সমাধান নয়। তবে এটি অন্তত আশপাশের মানুষের কষ্ট ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমাতে পেরেছে। শিবিরের বাসিন্দারা এখন এই পানি দিয়ে কাপড় ধোয়া, গোসল, বাসন পরিষ্কার থেকে শুরু করে কৃষিকাজও করছেন। কেউ আবার ছোট ছোট পাত্রে করে পানি নিয়ে যান নিজেদের তাঁবুতে। আর মোহাম্মদের আশা, একদিন হয়তো এই ছোট্ট কূপের মতো তাদের জীবনেও ফিরবে যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়।
আরটিভি/এআর



