ডোবার ওপর দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট এই ঘর। বাঁশ, টিন আর কয়েকটি খুঁটির ওপরই টিকে আছে তার পুরো পৃথিবী। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধের দিন শুরু হয় এখানেই, শেষও হয় এখানেই। মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ কোনো আশ্রয় নেই তার।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া গ্রামে থাকেন আশির্ধ্ব কৈলাশ। অনেক বছর আগে নদীভাঙনে হারিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারীর চলনা গ্রামের ভিটেমাটি। এরপর পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেন বড় বোনের বাড়িতে। জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বোনের সংসারের দায়িত্ব পালন করেই। নিজের জন্য আলাদা করে কিছু গড়ে তোলার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। বিয়েও করেননি তিনি।
সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোও। বড় বোন ও দুলাভাই আর বেঁচে নেই। এখন বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও নেই। কানে কম শোনেন, স্পষ্ট করে কথাও বলতে পারেন না। নিজের নামে নেই কোনো জমি কিংবা স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের দেওয়া খাবার ও সামান্য সহায়তায় কোনোমতে চলছে তাঁর জীবন। অসুস্থ হলে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই। ঝড়-বৃষ্টি এলেই বাড়ে দুশ্চিন্তা। কারণ ডোবার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ছোট্ট ঘরটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
জীবনের প্রায় পুরোটা সময় অন্যের জন্য কাটিয়েছেন কৈলাশ। অথচ শেষ বয়সে জোটেনি একটি নিরাপদ আশ্রয়। সামান্য সহায়তাই হয়তো বদলে দিতে পারে তাঁর বাকি জীবনের গল্প।
আরটিভি/এআর



