মিরপুর শের ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের আজকের সন্ধ্যার ম্যাচে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন দুই পাকিস্তানি। দুইজনই হাঁকিয়েছেন শতক। তবে খুলনা টাইগার্সের আজম খানকে শেষে পরাজিতের দলে থাকতে হয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সে খেলা স্বদেশি উসমান খানের শতকের জন্য।
মিরপুরে আজ মুখোমুখি হওয়ার আগে খুলনা-চট্টগ্রাম দুই দলই হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। ফলে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছে দুই দল। যেখানে টসে জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে আজম খানের বিধ্বংসী অপরাজিত ১০৯ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল খুলনা টাইগার্স। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উসমানের ১০২ রানের ওপর ভর করে ৭ বল আগে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম।
আগে ব্যাটিং করা খুলনা এদিন আরও বড় স্কোরই গড়তে পারত। তবে এক আজম খান ছাড়া খুলনার বাকি সব ব্যাটসম্যানই মাঠে সংগ্রাম করেছেন। দলটির তারকা ক্রিকেটার এবং ওপেনার তামিম ইকবাল তো ৪০ রান করতে খেলেছেন ৩৭ বল। এরমধ্যে দুইবার জীবনও পেয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।
ইনিংসের শুরু থেকে মন্থর গতিতে ক্রিকেট খেলেছেন তামিম। যা খুলনার রানের চাকা আরও বেশি বাড়তে দেয়নি। যদিও কেবল তামিম থেকেই যোগ্য সঙ্গ পেয়েছেন আজম খান। তামিমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে গড়েছিলেন ৯২ রানের জুটি। খুলনার বাকি ব্যাটসম্যানরা তো আসা যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত ছিলেন।
এর মাঝেই ৫৭ বলে চলতি বিপিএলের প্রথম শতক তুলে নেন আজম। এটি আজম খানেরও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৯ চার ও ৮ শতকে ১০৯ রান করেছিলেন আজম।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার উসমান খান এবং ম্যাক্স ও’ডোড ১৪১ রানের বিশাল জুটি দাঁড় করিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় খুলনাকে। ডাচ ক্রিকেটার ও’ডোড ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৫৮ রান করে আউট হয়ে ফিরলে ভাঙে জুটিটি।
সঙ্গীকে হারালেও অপরপ্রান্তে উসমান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। অবশ্য শতকের জন্য উসমানের সামনে এ ছাড়া উপায়ও ছিল না। ৩৪ বলে ৫০ ছোঁয়া উসমান পরের পঞ্চাশ স্পর্শ করেন মাত্র ২১ বলে।
৫৫ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছয়ে শতক পূর্ণ করেন ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এটি উসমানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকও। এর আগে কেবল একটি মাত্র ফিফটি করেছিলেন এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। ২০২১ সালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে সেই ম্যাচে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন উসমান।
বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক শতকের জবাবে আরেকটি শতক হাঁকিয়ে জয়ের দেখা মিলেছে। এর আগে সর্বশেষ বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ফাফ ডু প্লেসির শতকের জবাবে খুলনা টাইগার্সের আন্দ্রে ফ্লেচার শতক হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন।




