দেশের ক্রিকেটে আলোচিত যত ফিক্সিং

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ০৮:৩১ পিএম


দেশের ক্রিকেটে আলোচিত যত ফিক্সিং
ছবি : সংগৃহীত

ম্যাচ ফিক্সিং হলো ম্যাচের ফল বা নির্দিষ্ট অংশের ফল আগেই নির্ধারণ করে খেলা। কোনো নির্দিষ্ট খেলার নিয়ম ও নীতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটানো হয়। এর ফলে জুয়াড়িদের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় কোনো দলের খেলোয়াড় অন্য দলের সুবিধা করে দেওয়ার জন্যও ম্যাচ ফিক্সিং করা হয়ে থাকে।

ফিক্সিং করার জন্য বাজিকররা প্রথমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর টাকা দিয়ে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা করে থাকে। এটা কোনো নির্দিষ্ট ওভারের নির্দিষ্ট বলে নো বল, নির্দিষ্ট ওভারে কম রান দেওয়া বা নেওয়ার মধ্য দিয়ে ফিক্সিং করা হয়ে থাকে। এতে বুকিরা খেলোয়াড়দের সংকেত দিয়ে দেয়। অনেক সময় দলের গোপন কৌশল বুকিদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা ফিক্সিং করে থাকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফিক্সিং কাণ্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠেয় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রিকেটার লতা মণ্ডলকে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন স্বদেশি আরেক নারী ক্রিকেটার সোহেলী আক্তার।   

জানা গেছে, লতা মণ্ডলকে ফোন করে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন সোহেলী আক্তার। লতাকে খারাপ খেলার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে তাকে লাখ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনি যদি হিট আউট হন, তাহলে পাবেন ২০ লাখ টাকা। আর যদি স্ট্যাম্পিং হন, তাহলে তাকে দেওয়া হবে পাঁচ লাখ টাকা। 

তবে সোহেলী আক্তারের ফাঁদে পা দেননি লতা মণ্ডল। এই প্রস্তাব শোনার সঙ্গে সঙ্গেই নাকচ করে দেন এবং ঘটনার বিবরণ বিসিবিকে জানায়। বিসিবিও দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিষয়টি আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখাকে অবহিত করেন।

এই ঘটনার পর আবারও দেশের ক্রিকেটের আলোচিত ইস্যু ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারি। একটু অবাক এবং হতাশ করা খবর হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ এখন নিয়মিত অধ্যায়। চলুন জেনে নিই দেশের ক্রিকেটের আলোচিত কয়েকটি ফিক্সিং ইস্যু।  

শরিফুল হক প্লাবন

দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নিষিদ্ধ এক নাম শরিফুল হক প্লাবন। ২০১২ সালে বিপিএলের এক ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে জাতীয় দলের সাবেক এ ক্রিকেটারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করে বিসিবি। পরে ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়। এতে করে নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়েই শেষ হয় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বাংলাদেশের হয়ে ১৯৯৮ সালে একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। 

মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচিত এক নাম মোহাম্মদ আশরাফুল, তাকে প্রথম সুপারস্টার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে আক্ষেপের বিষয় টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ‘স্বীকৃত’ ফিক্সারও তিনি!

২০১৩ সালে মোহাম্মদ আশরাফুল শেষবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর আশরাফুল এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন এবং জাতির কাছে ক্ষমা চান। পরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা পান জাতীয় দলের একসময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। যে সাজা পরবর্তীতে কমে ৫ বছরে নেমে আসে। এতে করে দীর্ঘ ৫ বছর ৯ মাস টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেননি তিনি।

সাকিব আল হাসান

২০১৮ সালে জুয়াড়িদের কাছ থেকে তিনবার অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়ার পর তা ফিরিয়ে দেন সাকিব আল হাসান। বিবিসিকেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি বিশ্বের অন্যতম এ সেরা অলরাউন্ডার। এ কারণে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সাকিব ভুল স্বীকার করায়, তা কমিয়ে এক বছর করা হয়, বাকি এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়।

নাদির শাহ

২০১২ সালে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক টিভি সাংবাদিক জুয়াড়ি সেজে নাদির শাহসহ বেশ কয়েকজন আম্পায়ারকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেন। এ সময় অর্থ পেলে মাঠে যেকোনো সিদ্ধান্ত দিতে রাজি হন তারা। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন নাদির শাহ। অভিযোগ ওঠায়, ২০১৩ সালে তাকে (নাদির শাহ) ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বিসিবি। তবে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় বিসিবি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিং করার অনুমতি পান নাদির শাহ।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission