শেষ হলো ফুটবল বিশ্বের নতুন চেহারার ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথমবারের মতো ৩২টি ক্লাবের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনকে (পিএসজি) ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। এই জয়ে লন্ডনের ক্লাবটি দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে।
শিরোপার পাশাপাশি প্রাইজমানিতেও বাজিমাত করেছে চেলসি। মোট ১ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) প্রাইজমানির মধ্যে চেলসি পেয়েছে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার তারা পেয়েছে শুধুমাত্র টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য এবং ৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার পেয়েছে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার হিসেবে। শুধু ফাইনালে জয়ের পুরস্কার হিসেবে চেলসির ঘরে ঢুকেছে ৪ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা।
আর্থিকভাবে পিছিয়ে নেই রানার্সআপ পিএসজিও। ফাইনালে হেরে গেলেও ক্লাবটি আয় করেছে ১০ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।
ক্লাব বিশ্বকাপে কে কত পেল?
ইউরোপের ক্লাবগুলো গড়ে পেয়েছে ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাবগুলো পেয়েছে গড়ে ২৪ মিলিয়ন পাউন্ড।
এমনকি নিউজিল্যান্ডের অপেশাদার ক্লাব অকল্যান্ড সিটিও পেয়েছে ৩.৩ মিলিয়ন পাউন্ড, যা তাদের ২০২৪ সালের মোট আয়ের সাতগুণ!
২০২৫ সালের নতুন ফরম্যাটে ক্লাব বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে আগের চেয়ে ঢের বেশি আর্থিকভাবে লাভজনক। যেখানে সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রাইজমানি ছিল ৪৪ কোটি ডলার, সেখানে এবার তা বেড়ে হয়েছে ১০০ কোটি ডলার দ্বিগুণেরও বেশি।
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ৩২টি দলের মধ্যে ইউরোপ থেকে অংশ নিয়েছে ১২টি ক্লাব, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ৬টি, আফ্রিকা, এশিয়া ও উত্তর-মধ্য আমেরিকা থেকে ৪টি করে এবং ওশেনিয়া ও স্বাগতিক দেশের একটি করে ক্লাব অংশ নেয়। ৮টি গ্রুপে ভাগ হয়ে মাঠে গড়ায় টুর্নামেন্ট, যেখানে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল যায় নকআউট পর্বে। মোট ৬৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই ফুটবল উৎসবের পর্দা নামে ১৩ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জমকালো ফাইনালের মধ্য দিয়ে।
আরটিভি/এসকে
