বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিকেন্দ্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দেশের ৮ বিভাগে স্পোর্টস হাব বা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিকল্পনা থাকলেও নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় প্রকল্পটির পূর্ণ রূপরেখা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যে জানানো হয়, প্রতিটি স্পোর্টস হাব নির্মাণে আনুমানিক ১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা খরচ হবে। ফলে ৮ বিভাগে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকছে এসব হাবে।
প্রতিটি স্পোর্টস হাবে থাকছে যা যা:
১. হাবের অবকাঠামো—রোড, সীমানা প্রাচীর, গেট, ড্রেন ও ইলেক্ট্রিক পোল (খরচ: ১০০ কোটি টাকা)।
২. হকি স্টেডিয়াম (২৫,৭২৫ বর্গমিটার, খরচ: ১৫০ কোটি টাকা)।
৩. অলিম্পিক স্টেডিয়াম (৪৪,৫৫৪ বর্গমিটার, খরচ: ৪০০ কোটি টাকা)। এতে ফুটবল মাঠ, অ্যাথলেটিক ট্র্যাক, জাম্প, জ্যাভেলিন, হাই জাম্প, প্র্যাকটিস ট্র্যাকসহ সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
৪. ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও ইনডোর প্র্যাকটিস সুবিধা (২৪,১৪৪ বর্গমিটার, খরচ: ৭৫ কোটি টাকা)।
৫. খেলোয়াড়দের জন্য ১২ তলা আবাসন ভবন (৪,৫০০ বর্গমিটার, খরচ: ১৫০ কোটি টাকা)।
৬. সুইমিং পুল কমপ্লেক্স (১৪,৬৭০ বর্গমিটার, খরচ: ১৫০ কোটি টাকা)।
৭. শুটিং ইনডোর ও আউটডোর গ্রাউন্ড (৩,০০০ বর্গমিটার, খরচ: ২০ কোটি টাকা)।
৮. লন বল ও লন টেনিস কোর্ট (১০,০০০ বর্গমিটার, খরচ: ৩০ কোটি টাকা)।
৯. মাল্টিস্টোরিড স্পোর্টস কমপ্লেক্স (৬ তলা, ১১,০০০ বর্গমিটার, খরচ: ৪০০ কোটি টাকা)। এতে বক্সিং, রেস্টলিং, তায়কোয়ান্দো, জুডো, কারাতে, জিমন্যাস্টিক, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, ভলিবল, আর্চারি, হ্যান্ডবল, কাবাডি প্রভৃতি খেলার ইনডোর সুবিধা থাকবে।
১০. প্রশাসনিক ভবন (৪,৪০০ বর্গমিটার, খরচ: ১৫ কোটি টাকা)।
১১. বাস্কেটবল স্টেডিয়াম (৮৭০ বর্গমিটার, খরচ: ১০ কোটি টাকা)।
১২. পার্কিং ও অন্যান্য সুবিধা (খরচ: ৫০ কোটি টাকা)। এছাড়া বিদ্যুৎ ও পরামর্শ সুবিধায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি টাকা।
পরিকল্পনার পটভূমি
গত এপ্রিলেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেশের ক্রীড়া বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে একটি করে স্পোর্টস হাব গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, চীনসহ উন্নত দেশে এ ধরনের স্পোর্টস ভিলেজের কারণে খেলাধূলার মান বেড়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেলে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং তারা অর্থায়নে সম্মতি দেয়।
বর্তমানে দেশে একমাত্র বিকেএসপি (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) থাকলেও সেটি আন্তর্জাতিক মানে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় তৈরি করতে পারছে না। এজন্যই নতুন স্পোর্টস হাব নির্মাণকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরটিভি/এসকে





