ভারতে অবৈধ অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার মালিকানাধীন মোট ১১ কোটি ১৪ লাখ রুপির সম্পদ জব্দ করেছে সংস্থাটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কুখ্যাত বেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ানএক্সবেট (1xBet)’–কে ঘিরে চলমান অর্থপাচার মামলার বিস্তৃত তদন্তের ধারাবাহিকতায়।
ইডির দাবি, নিষিদ্ধ বেটিং প্ল্যাটফর্মটির প্রচারের আড়ালে ভারত থেকে ১ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে সংস্থাটি চারটি পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধাওয়ান ও রায়না সরাসরি ওয়ানএক্সবেট-এর বিজ্ঞাপনে অংশ না নিলেও ‘সারোগেট অ্যাডভার্টাইজিং’–এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্ল্যাটফর্মটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ, মূল কোম্পানির নাম সামান্য পরিবর্তন করে অন্য নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল—যা আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে জানিয়েছে ইডি।
ইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রচারণার বিনিময়ে ক্রিকেটাররা নগদ অর্থ না পেলেও ‘অন্য পথে’ আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
সুরেশ রায়নার নামে প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ রুপির মিউচুয়াল ফান্ড কেনা হয়, আর শিখর ধাওয়ানের নামে ৪ কোটি ৫০ লাখ রুপির সম্পত্তি ক্রয় করা হয় বলে অভিযোগ।
সংস্থাটির মতে, এসব সম্পদের অর্থের উৎস ওয়ানএক্সবেট নেটওয়ার্ক থেকেই এসেছে, যা সরাসরি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় পড়ে।
ইতোমধ্যে ৩৯ বছর বয়সী শিখর ধাওয়ানের বক্তব্য রেকর্ড করেছে ইডি। অপরদিকে, সুরেশ রায়নাকে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে তাদের মাঠের বাইরের আর্থিক লেনদেন ও প্রচারণা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এই ঘটনার রেশ এখন শুধু ক্রিকেটাঙ্গনে নয়, বরং বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তি খাতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, ইডি গুগল ও মেটার প্রতিনিধিদেরও তলব করেছে, যারা অনলাইনে এসব বিজ্ঞাপন পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, Parimatch নামের আরেকটি বাজি অ্যাপের বিরুদ্ধেও ভারতের একাধিক রাজ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রতি বাস্তব অর্থভিত্তিক অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। সরকারের এই উদ্যোগ অবৈধ বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও ওয়ানএক্সবেট-এর প্রচারণা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও একসময় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ানএক্সবেট-এর বিজ্ঞাপন চালিয়েছিলেন, যা তখন ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ইডির মতে, এই পুরো চক্র শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রচারণা নয় বরং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, পেমেন্ট গেটওয়ে, করফাঁকি ও অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কের অংশ। আর তাই ধাওয়ান ও রায়নার সম্পদ জব্দের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের তদন্ত সংস্থা বলছে, দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বিস্তৃত পরিসরে চলবে।
আরটিভি/এসকে

