স্কুলশিক্ষকের ছেলেকে কোটিপতি বানাল আইপিএল

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:৩৪ পিএম


স্কুলশিক্ষকের ছেলেকে কোটিপতি বানাল আইপিএল
ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলের নিলাম এক রাতেই ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেই বাস্তবতারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন উত্তর প্রদেশের তরুণ ক্রিকেটার প্রশান্ত বীর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাবার সংসারে বেড়ে ওঠা এই বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডারকে আইপিএলের নিলামে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)।

প্রশান্তের বাবা একজন ‘শিক্ষামিত্র’ উত্তর প্রদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই নামেই ডাকা হয়। মাসিক আয় মাত্র ১২ হাজার রুপি। এমন সীমিত আয়ের পরিবারে বড় হওয়া প্রশান্তের স্বপ্নও ছিল সীমিত। লাখের গণ্ডি পার হওয়াই যেখানে বড় অর্জন, সেখানে কোটি টাকার অঙ্ক তার কল্পনাতেও ছিল না।

কিন্তু আইপিএলের নিলামে ভিত্তিমূল্য ৩০ লাখ রুপি থেকে শুরু করে দর হাঁকার লড়াইয়ে প্রশান্তের দাম গিয়ে ঠেকে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে। এর মাধ্যমে তিনি আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া দুই আনক্যাপড খেলোয়াড়ের একজন হয়ে গেছেন।

নিলামের পর অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে প্রশান্ত বলেন, শুধু আশা ছিল, কেউ একজন আমার জন্য প্যাডল তুলবেন। ১৪ কোটি রুপিতে সিএসকেতে গিয়েছি এটা বুঝতে আমার কিছুটা সময় লেগেছে। সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছিল। আমার পরিবার জীবনেও এত টাকা দেখেনি। এই অর্থ দিয়ে কী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত পরিবারই নেবে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র দুটি ম্যাচ এবং স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৯ ম্যাচ খেলা প্রশান্তের পরিসংখ্যান খুব বড় না হলেও তাঁর সম্ভাবনাই নজর কাড়ে সিএসকের। টি-টোয়েন্টিতে ১২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৭ ইনিংসে করেছেন ১১২ রান। চেন্নাই দলে তাঁকে ভবিষ্যতের রবীন্দ্র জাদেজার বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমএস ধোনির অধীনে খেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত প্রশান্ত বলেন, আমি সব সময় সিএসকেতে খেলতে চেয়েছি, বিশেষ করে ধোনির অধীনে। প্রার্থনা করেছিলাম যেন নিলামে সিএসকেতেই যাই। সৃষ্টিকর্তা আমার কথা শুনেছেন।

উত্তর প্রদেশের আমেথি শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরের ছোট গ্রাম শাহজিপুর সেখান থেকেই প্রশান্তের এই উত্থান। সাত বছর আগে সাহারানপুরে গিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন তিনি। তাঁর শৈশবের কোচ রাজীব গোয়াল প্রথম দিন থেকেই প্রশান্তের প্রতিভায় আস্থা রাখেন।

রাজীব গোয়াল বলেন, ১৫ বছর বয়সেই ওর বোলিংয়ের টাইমিং দেখে বুঝেছিলাম, ছেলেটার ভেতরে বিশেষ কিছু আছে।

প্রশান্তের ক্রিকেট জীবনের ব্যয়ভার বহন করেন তার প্রয়াত দাদা সূর্যকুমার ত্রিপাঠি। নিজের পেনশনের টাকা নাতির পেছনে খরচ করেন তিনি। দাদার মৃত্যুর পর ক্রিকেট ছাড়ার কথা ভাবলেও কোচদের উৎসাহেই আবার মাঠে ফেরেন প্রশান্ত।

অর্থ এলেও প্রশান্তের জীবনদর্শন বদলায়নি বলে জানান তার কোচ। ইতিমধ্যে পাওয়া অর্থ দিয়ে বাবার জন্য ছোট পরিবহন ব্যবসা শুরু করেছেন, জমি কিনেছেন এবং বাড়ি মেরামত করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন

রাজীব গোয়ালের ভাষায়, অর্থ ওকে পাল্টাতে পারেনি। সে এর মূল্য বোঝে। স্কুলশিক্ষকের ছেলের এই উত্থান কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয় এটি স্বপ্ন, ধৈর্য ও আইপিএলের বদলে দেওয়ার ক্ষমতার এক অনন্য দলিল।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission