আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), যা নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক দুই ক্রিকেট অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা এই সিদ্ধান্তকে অসঙ্গত এবং বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে আইসিসিকে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শহিদ আফ্রিদি লেখেন, বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির এই অসঙ্গত আচরণে আমি গভীরভাবে হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নেওয়া হয়েছে, অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের বোঝাপড়া দেখানো হচ্ছে না।’ আফ্রিদি আরও বলেন, ‘আইসিসির উচিত দ্বৈত মানদণ্ড এড়িয়ে ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া। বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও তাদের কোটি কোটি সমর্থক সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
অন্যদিকে সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তার কারণে একটি ক্রিকেটপ্রেমী দেশ ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক। অতীতে নিরাপত্তা সমস্যার কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। দেশভেদে মানদণ্ড বদলানো উচিত নয়।
ইউসুফ আরও বলেন, আইসিসির উচিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বজনীন নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করা, কোনো একক বোর্ডের স্বার্থ রক্ষা নয়। ন্যায্যতা ও সমতা বজায় রাখাই বৈশ্বিক ক্রিকেটের ভিত্তি।
সাবধানী পদক্ষেপ হিসেবে, আইসিসি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ দেয়া হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি। আইসিসির বরাতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আবেদন খারিজ করা হয়েছে, কারণ ভারতে ম্যাচ সরানোর জন্য নিরাপত্তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়া যায়নি।
এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে, যখন ক্রিকেট বিশ্বে ন্যায়বিচার ও সমতার দাবির কথাও আরও উচ্চস্বরে উঠে এসেছে।
আরটিভি/এসকে




