বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কট করা নিয়ে আইসিসির নিয়ম যা বলে

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:৩৪ পিএম


বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কট করা নিয়ে আইসিসির নিয়ম যা বলে
ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ‘বর্জন’ করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে ইসলামাবাদ।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতি ‘সংহতি’ প্রকাশের অংশ। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে না যাওয়ায় আইসিসি বাংলাদেশকে আসর থেকে বাদ দেওয়ার পর এই অবস্থান নেয় পাকিস্তান।

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় শুরুতে পুরো টুর্নামেন্ট বর্জনের কথাও ভাবছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত একটি ম্যাচে না নামার সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে তারা। এতে প্রশ্ন উঠেছে আইসিসির নিয়মে কি নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করা সম্ভব?

বিজ্ঞাপন

আইসিসির নিয়ম কী বলে?

আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, কোনো দল চাইলে টেকনিক্যালি একটি ম্যাচে মাঠে না নামতে পারে। তবে এর সঙ্গে কঠোর শাস্তির ঝুঁকিও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওয়াকওভার ও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা

নির্ধারিত দিনে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে উপস্থিত থাকলেও যদি পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা মাঠে না আসেন, তাহলে ম্যাচ রেফারি ভারতের পক্ষে ম্যাচ ঘোষণা করবেন। এতে ভারত পাবে পূর্ণ ২ পয়েন্ট।

বিজ্ঞাপন

এখানেই শেষ নয়। আইসিসির ধারা ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, ম্যাচে অনুপস্থিত দলকে ২০ ওভারে শূন্য রান করেছে বলে ধরা হবে। ফলে পাকিস্তানের নেট রানরেট ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে ওঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

আর্থিক ক্ষতি ও বাণিজ্যিক চাপ

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিজ্ঞাপন আয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এই ক্ষতির দায় আইসিসি সরাসরি পিসিবির ওপর চাপাতে পারে। পাশাপাশি আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে পিসিবির বার্ষিক রাজস্ব ভাগে। আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থ পাকিস্তানের ক্রিকেট বাজেটের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। এই অর্থ আটকে গেলে পিসিবি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

সরকারি হস্তক্ষেপে ছাড় মিলবে?

আইসিসি সংবিধানের ধারা ২.৪(ডি) অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হয়। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি দাবি করেছেন, সরকারের নির্দেশ মেনে চলায় পাকিস্তান শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে।

তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচ বর্জনের পেছনে কোনো নিরাপত্তাজনিত যুক্তি নেই। ফলে এই সিদ্ধান্তকে টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা ভঙ্গ হিসেবে দেখছে আইসিসি।

আরও পড়ুন

অতীত নজির যা বলে?

এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু দল ম্যাচ খেলেনি। সে সময় সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক শাস্তির মুখে পড়েনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে আইসিসি শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয় এবং বিশ্বকাপের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হয়। 

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission