আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অবশেষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে প্রত্যাশিত কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে সংস্থাটি সীমিত শাস্তিতেই থেমে গেছে।
২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএ) ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিতসহ নানা অভিযোগ তোলে ফিফার কাছে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বৃহস্পতিবার ফিফা জানায়, তারা ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত বা বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তাদের রায়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত বৈষম্য’-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে দোষী। এর ভিত্তিতে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।
পিএফএর প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিলো: বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণ, ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত দলগুলোকে ইসরায়েলের লিগে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের বসতি থেকে দলগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে খেলানোর বিষয়টিকে ফিফার নিয়মবিরোধী বলে দাবি করে পিএফএ।
ফিফা জানায়, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জটিল ও অনির্ধারিত। ফলে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এর আগে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত সমাধান করা ফিফার কাজ নয়। তবে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব কমাতে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বড় ধরনের শাস্তি না দিয়ে শুধু আর্থিক জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে ফিফা। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরটিভি/এসকে




