আইপিএলের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) রেকর্ড দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১,৮৫০ কোটি টাকা) খরচ করে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়াম দলটির পূর্ণ মালিকানা কিনেছে।
বর্তমান মালিক ইউনাইটেড স্পিরিট লিমিটেড বোর্ডের অনুমোদনের পর চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। নতুন কনসোর্টিয়ামে রয়েছে আদিত্য বিরলা গ্রুপ, দ্য টাইমস গ্রুপ, বোল্ট ভেঞ্চার এবং ব্ল্যাকস্টোনের বিনিয়োগ কৌশল ‘বিএক্সপিই’। এই সমন্বিত বিনিয়োগ আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তুলনামূলকভাবে, ২০২১ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড লখনউ ও আহমেদাবাদের দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করেছিল মোট ১২,৭১৫ কোটি টাকায়, যা আরসিবির বর্তমান বিক্রির তুলনায় অনেক কম। ফলে আরসিবি এখন আইপিএলের সবচেয়ে মূল্যবান দলগুলোর মধ্যে অন্যতম।
নতুন মালিকানা শুধুমাত্র পুরুষ দলের জন্য নয়, আরসিবির নারী দলও একই কাঠামোয় পরিচালিত হবে। দলের কার্যক্রম আগে পরিচালনা করত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড, ইউএসএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে বিসিসিআই ও ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন।
২০০৮ সালে আইপিএল শুরু থেকেই আরসিবি ছিল সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর মধ্যে। প্রাথমিক মালিক বিজয় মালিয়ার ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজ গ্রুপ দলটি কিনেছিল ১১১.৬ মিলিয়ন ডলারে। বিরাট কোহলির মতো তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দলের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং সমর্থকবৃন্দকে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করেছে। ২০২৩ সালে নারী আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রয়ে ৯০১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, যা দলটির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ প্রমাণ করে।
নতুন কনসোর্টিয়াম জানিয়েছে, তারা আরসিবির ‘চ্যাম্পিয়ন সংস্কৃতি’ ও সমর্থকবৃন্দকে আরও শক্তিশালী করতে চায় এবং বাণিজ্যিক ও ব্র্যান্ড মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রভীন সোমেশ্বর বলেন, প্লে বোল্ড দর্শনকে সামনে রেখে আরসিবি আইপিএল এবং নারী প্রিমিয়ার লিগ দুই ক্ষেত্রেই শক্তিশালী ও বাণিজ্যিকভাবে সফল ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। নতুন মালিকানায় দলটির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।
আরটিভি/এসকে



