যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উপকূলবর্তী ফক্সবোরোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ব্রাজিল। গ্যালারিতে ৬৬ হাজারের বেশি দর্শকের বড় অংশ ব্রাজিলকে সমর্থন দিলেও মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে কিলিয়ান এমবাপ্পে-হুগো একিতিকের ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে গোলের সুযোগ এবং আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। কিন্তু ফিনিশিং ব্যর্থতায় সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পায় ব্রাজিল। তবে ক্যাসেমিরোর উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে নেওয়া রাফিনিয়ার শট গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর ফ্রান্সও সুযোগ তৈরি করলেও হুগো একিতিকে হেড থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
প্রথমার্ধে খুব বেশি ধারালো আক্রমণ গড়তে পারেনি ব্রাজিল। ২৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দূরপাল্লার জোরালো শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এরপর ৩২ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের রক্ষণচেরা পাস ধরে বক্সে ঢুকে ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসনের ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়ান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গোলসংখ্যা ৫৬-তে নিয়ে যান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ের জিরুর (৫৭) রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র দুটি গোল।
প্রথমার্ধে ব্রাজিল ৬টি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। বিপরীতে ফ্রান্স ৫টি শটের একটি লক্ষ্যে রেখে সেটিকেই গোলে পরিণত করে।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ গড়লেও ফিনিশিং দুর্বলতায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে ৫৫ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়। ব্রাজিল ডিফেন্ডার ওয়েসলিকে কঠোর ফাউল করায় ফ্রান্সের দায়োত উপামেকানো প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন। পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
১০ জন নিয়ে খেলতে নেমেও বরং ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ৬৫ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলটি করেন হুগো একিতিকে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।
তবে ব্রাজিল হাল ছাড়েনি। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ব্রেমার। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল ক্যাসেমিরো কাটব্যাক করলে পা বাড়িয়ে বল জালে পাঠান জুভেন্টাসের এই ডিফেন্ডার। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
শেষদিকে সমতায় ফেরার জন্য ফ্রান্সের রক্ষণে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ব্রাজিল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তাদের। শেষ মুহূর্তে ব্রেমারের বাড়ানো বলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা ঠিকমতো সংযোগ করতে না পারায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ফলে দারুণ লড়াইয়ের পরও হতাশাই সঙ্গী হলো ব্রাজিলের, আর ১০ জন নিয়ে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এক পারফরম্যান্স উপহার দিল ফ্রান্স।
আরটিভি/এসকে



