অলিম্পিকে নারী অ্যাথলেটদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষার (Gender Testing) বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি দৌড়বিদ কেস্টার সেমেনিয়া। দুইবারের এই অলিম্পিক সোনা জয়ী অ্যাথলেটের মতে, এই নীতিমালা নারীর মৌলিক অধিকার ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) একটি নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। এর ফলে এখন থেকে নারী ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য অ্যাথলেটদের লালা বা গালের কোষ (Cheek Swab) পরীক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ নিশ্চিত করতে হবে। আইওসির দাবি, শারীরিক সক্ষমতার খেলায় সমতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। তবে সেমেনিয়া একে 'বৈষম্যমূলক' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে 'ডিফারেন্স অফ সেক্সুয়াল ডেভেলপমেন্ট' (ডিএসডি) নিয়ে আইনি লড়াই চালানো ৩৫ বছর বয়সী সেমেনিয়া বলেন, আমরা এই বিষয়ে চুপ থাকব না। যতক্ষণ আমাদের কথা শোনা না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। এখন সময় এসেছে নারীদের রুখে দাঁড়ানোর এবং বলার যে— অনেক হয়েছে, আর নয়।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, আমাকে যদি নারী হিসেবে খেলায় অংশ নিতে দেওয়া হয়, তবে আমার কণ্ঠস্বর, শারীরিক গঠন বা শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো অংশ কেন সমস্যার কারণ হবে?
আইওসির দাবি, যাদের শরীরে পুরুষালি হরমোন বা ক্রোমোজোম বেশি থাকে, তারা সাধারণ নারীদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পান। তবে সেমেনিয়া এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এর পেছনে কোনো বিজ্ঞান নেই। আমি নিজে এই পথ দিয়ে এসেছি। একজন অ্যাথলেট বড় হয় তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে, কোনো হরমোনের কারসাজিতে নয়।
আফ্রিকা থেকে নির্বাচিত আইওসির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেমেনিয়া। তার অভিযোগ, এই বিতর্কিত নীতিমালা তৈরির আগে তার মতো ডিএসডি আক্রান্ত অ্যাথলেটদের সঙ্গে কোনো কার্যকর আলোচনা করা হয়নি।
৮০০ মিটারে তিনটি বিশ্বখেতাব ও দুটি অলিম্পিক সোনা জয়ী সেমেনিয়াকে এর আগে হরমোন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রিয় ইভেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অলিম্পিকের এই নতুন বৈশ্বিক নিয়ম ক্রীড়া বিশ্বে লিঙ্গ সমতা ও ফেয়ারনেস নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিতর্ককে আবারও উসকে দিল।
আরটিভি/এমএইচজে



