লা লিগায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। যেখানে কঠিন লড়াই করেছে দুই দল। তবে শেষ দিকে রবের্ত লেভানদোভস্কির গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা। এতে শিরোপার লড়াইয়ে আরও এগিয়ে গেল বার্সেলোনা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানোয় অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালানরা। জুলিয়ানো সিমেওনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, প্রথমার্ধেই চমৎকার গোলে সমতা ফেরান মার্কাস র্যাশফোর্ড। দ্বিতীয়ার্ধে তার বদলি নেমে জয়সূচক গোলটি করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি।
এদিন দ্বিতীয় মিনিটে একটি হাফ চান্স পায় বার্সেলোনা। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন জোয়াও কান্সেলো, অন্য পাশে দুরূহ কোণ থেকে লামিনে ইয়ামালের শট আটকে দেন এক ডিফেন্ডার। সপ্তম মিনিটে র্যাশফোর্ডের ফ্রি কিক ঠেকান গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। একাদশ মিনিটে সুযোগ পায় অ্যাথলেটিকো।
বক্সে ঢুকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের নেওয়া শট অনায়াসে ঠেকান বার্সেলোনা গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। চতুর্দশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় বার্সেলোনা। ইয়ামালের চমৎকার পাসে প্রতিপক্ষের বাধায় বক্সের বাইরে থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি ফের্মিন লোপেস, বল পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
৩৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে পাস দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। ফিরতি বলে স্প্যানিশ তারকার শট পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। ৩৯তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে বার্সেলোনা। নিজেদের অর্ধ থেকে ক্লেঁমো লংলের উঁচু করে বাড়ানোর বল অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জুলিয়ানো সিমেওনে।
অ্যাথলেটিকোর এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুই মিনিট পরই র্যাশফোর্ডের দারুণ গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। মাঝমাঠ থেকে বাঁ দিক দিয়ে বল ধরে এগিয়ে বক্সের বাইরে দানি ওলমোকে পাস দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন ইংলিশ ফরোয়ার্ড, সতীর্থের ফিরতি পাস পেয়ে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বল ক্লিয়ারের চেষ্টায় ফলো থ্রুতে মোলিনার পা মাড়ানোয় জেরার্দ মার্তিনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। তবে মনিটরে দেখে আগের সিদ্ধান্ত পাল্টে হলুদ কার্ড দেন তিনি, বেঁচে যায় বার্সেলোনা।
৫৯তম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে ইয়ামালের নেওয়া শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। ৬৬তম মিনিটে কান্সেলোর ক্রসে তরেসের শট ফিরিয়ে দেন মুসো। অ্যাথলেটিকোর ওপর চাপ ধরে রাখে বার্সেলোনা। জমাট রক্ষণে তাদের আটকে রাখে স্বাগতিকরা।
অবশেষে ৮৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। বক্সে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কান্সেলোর কোনাকুনি শট গোলরক্ষক মুসো ফিরিয়ে দেন, তবে কাছেই দাঁড়ানো লেভানদোভস্কির বুকে লেগে জালে জড়ায় বল!

গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফ ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভাঙে পোল্যান্ড ও লেভানদোভস্কির। ক্লাবে ফিরে ৭৯তম মিনিটে বদলি নেমে পোলিশ তারকাই শেষের নায়ক।
৩০ ম্যাচে ২৫ জয় ও এক ড্রয়ে শিরোপাধারীদের পয়েন্ট হলো ৭৬। সমান ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ। ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে অ্যাথলেটিকো। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে তিনে ভিয়ারেয়াল।
আরটিভি/এসআর




