বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বিশ্বকাপ মাঠে নামার আগেই গড়ল অনন্য এক রেকর্ড। ফিফা ঘোষিত ম্যাচ অফিশিয়ালদের তালিকায় দুই দেশ থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ১০৪ ম্যাচের এই বিশাল আয়োজন। এই টুর্নামেন্টের জন্য ফিফা মোট ১৭০ জন ম্যাচ অফিশিয়ালের তালিকা প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এই তালিকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে রয়েছেন ৯ জন করে অফিশিয়াল যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই দেশ থেকেই তিনজন করে প্রধান রেফারি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথম।
আর্জেন্টিনার প্রধান রেফারির তালিকায় রয়েছেন ফাকুন্দো তেল্লো, দারিও হেরেরা ও ইয়ায়েল ফ্যালকন পেরেজ। সহকারী রেফারি হিসেবে আছেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি, ম্যাক্সিমিলিয়ানো দেল ইয়েসো, গ্যাব্রিয়েল শাদে, ফাকুন্দো রদ্রিগেজ ও ক্রিস্টিয়ান নাভারো। ভিএআর দায়িত্বে থাকবেন হার্নান মাস্ত্রাঙ্গেলো। তাদের মধ্যে তেল্লোই একমাত্র, যিনি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রামোন আবাত্তি আবেল, উইল্টন পেরেইরা সাম্পাইয়ো ও রাফায়েল ক্লাউস। এছাড়া সহকারী ও ভিএআর দলে রয়েছেন ব্রুনো বসশিলিয়া, ব্রুনো পায়ার্স, দানিলো মামিস, রদ্রিগো ফিগুয়েইরেদো, রাফায়েল আলভেস এবং রোডলফ তস্কি মারকুয়েস।
মোট তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ জন অফিশিয়াল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আর ৭ জন করে আছে মেক্সিকো ও ফ্রান্স থেকে। সব মিলিয়ে ৫০টি সদস্য দেশ থেকে ৫২ জন প্রধান রেফারি, ৮৮ জন সহকারী ও ৩০ জন ভিএআর অফিশিয়াল নিয়েছে ফিফা যা আগের আসরের তুলনায় ৪১ জন বেশি।
ফিফার চিফ রেফারিং অফিসার পিয়েরলুইগি কোলিনা জানিয়েছেন, নির্বাচিত অফিশিয়ালরা দীর্ঘ তিন বছরের পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে, যাতে তারা টুর্নামেন্টের শুরুতেই সর্বোচ্চ ফিটনেসে থাকতে পারেন।
এবারের বিশ্বকাপে প্রযুক্তিগত দিকেও আসছে নতুনত্ব। রেফারিদের বডি ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্ট্যাবিলাইজেশন সফটওয়্যার, যা রিয়েল-টাইম ফুটেজকে আরও পরিষ্কার ও স্থিতিশীল করে তুলবে। এতে দর্শকরা মাঠের ঘটনাগুলো রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে আরও নিখুঁতভাবে দেখতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল তাদের আধিপত্য দেখাল অন্য এক মঞ্চে রেফারিংয়েও যে তারা এগিয়ে, সেটিই এবার প্রমাণিত।
আরটিভি/এসকে



