নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানের নাটকীয় হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। কিউইদের দেয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটির পরেও ২২১ রানে অলআউট হয়ে গেছে টাইগাররা।
অথচ ২৫তম ওভারেই টার্গেটের অর্ধেক রান করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। একটু দেখেশুনে খেললে সহজেই জয় ধরা দিত। কিন্তু অনেক ডটবল দিয়ে নিজেদের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে বাংলাদেশ। তাতে নিউজিল্যান্ডের গোছানো বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ফলে ব্রেয়ার টিকনার ও ন্যাথান স্মিথের বোলিং তোপে ৯ বল বাকি থাকতেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থাপক হার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, মাঝে মাঝে এমনটা হয়। সব খেলোয়াড়ই খুব উত্তেজিত ছিল এবং সবাই জিততে চেয়েছিল, কিন্তু মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে।
বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার মনে হয় আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি। এই উইকেটে ২৭০ রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। উইকেটটা বেশ ভালো ছিল এবং আমাদের বোলাররা (রান নিয়ন্ত্রণে) দারুণ কাজ করেছে। আমরা যদি দুইটা ক্যাচ নিতে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ওদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারতাম। এটা আমাদের দলের ছোট একটা ভুল ছিল। তবে আমি মনে করি আমাদের অনেক ইতিবাচক দিকও আছে।
মুস্তাফিজুর রহমানের ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের একাদশে সুযোগ পান শরিফুল ইসলাম। এই বাঁহাতি পেসারের সুযোগ পাওয়া নিয়ে মিরাজ বলেন, বেশ কিছু ইতিবাচক দিকের মধ্যে একটি ছিল আশীর্বাদের মতো— তা হলো শেষ মুহূর্তে শরিফুলের দলে অন্তর্ভুক্তি। এটা ওর জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ ছিল। একদম শেষ মুহূর্তে মুস্তাফিজুর ইনজুরিতে পড়ায় যে কারো জন্য কাজটা কঠিন ছিল, কারণ প্রস্তুতির দিক থেকে ও জানত না যে এই ম্যাচটি ও খেলছে। ভাগ্যক্রমে ও সুযোগ পেয়েছে এবং অনেকদিন পর ফিরেও খুব ভালো বোলিং করেছে।
৩৭ রানে শেষ ৬ উইকেট হারালেও ব্যাটিং নিয়ে ইতিবাচক তিনি, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার মনে হয় পরপর দুটি উইকেট পড়ে যাওয়া সব সময় প্রতিপক্ষ দলের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। তবে লিটন ও তাওহীদ যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা দুর্দান্ত ছিল। এরপর তাওহীদ ও আফিফও ভালো খেলেছে। আমাদের অবশ্যই ম্যাচটা ভালোভাবে শেষ করা উচিত ছিল, অন্যথায় জয় পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ রান তাড়া করার সময় বড় পার্টনারশিপ গড়া খুব জরুরি। আমরা যদি একটা বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ম্যাচটা জিততাম।
আরটিভি/এসএস




