সদ্য শেষ হওয়া কোপা দেল রের এবারের আসরে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে চমক দেখিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ। শক্তিতে অ্যাথলেটিকো এগিয়ে থাকলেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন সোসিয়েদাদের ফুটবলার। টাইব্রেকারে অ্যাথলেটিকোকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছে তারা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সেভিয়ায় নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ২-২ গোল ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে অ্যাথলেটিকোকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে সোসিয়েদাদ।
পেনাল্টি শুটআউটে আলেকসান্দার সরলথ ও আলভারেসের নেওয়া আতলেতিকোর প্রথম দুটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক উনাই মারেরো। দলটির দ্বিতীয় শট নেওয়া অস্কারসন ব্যর্থ হলেও, বাকি চার জন পান জালের দেখা।
সোসিয়েদাদের সাফল্যে অনন্য এক কীর্তি গড়লেন কোচ পেল্লেগ্রিনি মাতারাজ্জো। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোচ হিসেবে কোনো কাপ ফাইনালে শিরোপা জিতলেন তিনি।
৩৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে কোপা দেল রেতে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা জিতেছিল সোসিয়েদাদ। এবার জিতল চতুর্থবারের মতো। আর প্রতিযোগিতাটির ১০ বারের শিরোপা জয়ী অ্যাথলেটিকো সবশেষ জিতেছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে। মাদ্রিদের দলটির অপেক্ষা আরও বেড়ে গেল।
এদিন খেলা শুরু হতে না হতেই অ্যাথলেটিকো জালে বল পাঠায় সোসিয়েদাদ। বাঁ দিক থেকে গন্সালো গেদেসের ক্রসে বক্সে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ওপর লাফিয়ে হেড করেন বারেনেক্সিয়া। বলে খুব বেশি গতি না থাকলেও, ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি গোলরক্ষক।
সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে জয়ী অ্যাথলেটিকো ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি। অষ্টাদশ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান লুকমান। অঁতোয়ান গ্রিজমানের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সোসিয়েদাদের তিন খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ চলতে থাকে দুই দলের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অধিনায়ক ওইয়ারসাবালের সফল স্পট কিকে দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। অ্যাথলেটিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বক্সে লাফিয়ে হেড করতে ওঠা গেদেসের ঘাড়ে আঘাত করায় পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। হলুদ কার্ডও দেখেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া চেষ্টা চালায় আতলেতিকো। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৮৩তম মিনিটে চমৎকার গোলে স্কোরলাইন ২-২ করেন আলভারেস। থিয়াগো আলমাদার পাস বক্সের সামনে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দারুণ সুযোগ পান আতলেতিকোর কার্দোসো। কিন্তু কাছ থেকে ওয়ান-অন-ওয়ানে বাইরে মেরে বসেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো লড়াইয়ে ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে দুর্দান্ত ডাবল সেভে অ্যাথলেটিকোকে বাঁচান মুসো।
লুকা সুসিকের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর, কাছ থেকে অস্কারসনের প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। দুই মিনিট পর আবার গোল করতে পারতেন আলভারেস। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে তার জোরাল শট পোস্টে লাগে। এই হতাশা তাদের আরও বেড়ে যায় টাইব্রেকারে হেরে।
আরটিভি/এসআর



