ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা। গোটা বিশ্বের চোখ এখন আয়োজক শহরগুলোর দিকে। তবে নিউইয়র্ক সিটিতে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে এক বড় ধরনের উদ্বেগ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরকে ঘিরে শহরটিতে তীব্র গণশৌচাগারের সংকট দেখা দিয়েছে। লাখো দর্শনার্থীর ভিড় সামাল দেওয়া এবং তাদের জন্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিউইয়র্ক ও এর আশপাশের এলাকায় এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ভিড় করবেন। পর্যটকদের এই বিশাল চাপ সামাল দেওয়ার জন্য শহরের বর্তমান পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বর্তমানে প্রতি ৮ হাজার ৫০০ মানুষের জন্য মাত্র একটি গণশৌচাগার রয়েছে। এই অনুপাত স্বাভাবিক সময়েও বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শহরের বিভিন্ন পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ লাইনের চিত্র চোখে পড়ে।
বিশ্বকাপের সময় দর্শনার্থীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মধ্যে সমর্থকদের ব্যাপক যাতায়াত এবং বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকাকে ঘিরে মৌলিক সেবাগুলোর ওপর যে পরিমাণ চাপ তৈরি হবে, তা বর্তমান ব্যবস্থার পক্ষে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব। স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যার মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচ, নকআউটের দুটি ম্যাচ এবং বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে শহর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। তারা শৌচাগার সুবিধা বাড়ানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু আয়োজনের সময় খুব কম হাতে থাকায় দ্রুত স্থায়ী কোনো সমাধান করা সম্ভব নয়। কর্মকর্তাদের মতে, এমন একটি বৈশ্বিক বড় আয়োজনের সময় যদি দর্শকদের জন্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা না যায়, তবে শহরের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৪৮টি দেশ ও শতাধিক ম্যাচ নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে বিশ্বজুড়ে নজর থাকবে আয়োজক শহরগুলোর দিকে। নিউইয়র্কের জন্য চ্যালেঞ্জটা শুধু ম্যাচ আয়োজন নয় বরং দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আনন্দের চেয়ে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সেই জায়গায় গণশৌচাগারের মতো একটি ক্ষুদ্র কিন্তু মৌলিক বিষয়ই হয়ে উঠতে পারে বড় ইস্যু।
আরটিভি/এআর



