দেশে ফেরার বিষয়ে আরও একবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দুদিনের মধ্যে দেশে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
ভারতের মুম্বাই থেকে সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানিয়েছেন সাকিব।
সাক্ষাৎকারে টাইগার অলরাউন্ডার আরও জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আইনিভাবে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি। তবে, প্রয়োজন কেবল স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’ লিগের লঞ্চিং ইভেন্টে অংশ নিতে গিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দেশসেরা এ ক্রিকেটার।
দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, আমি ফিরবো, কোর্টে যাবো, মামলা লড়বো। কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু, আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে। আমি তো বলছি না যে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। একটা স্বাভাবিক নিরাপত্তা তো আছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করা হবে না— এটুকু গ্যারান্টি কালকে দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।
এসময় তিনি দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখায় তিনি চেক বাউন্সের মতো সাধারণ মামলাগুলোও নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। দেড় বছর তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরেও দেশে ফেরার কথা ছিল সাকিবের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম, ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলল যে, ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার!’ দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।
এছাড়া, জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা এবং বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পুরো উল্টো পিঠে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থাকায় আমি ঘটনার গভীরতা শুরুতে বুঝতে পারিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমি আপ-টু-ডেট ছিলাম না। সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছে, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো? আন্দোলনের সময় নিহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্য সমান।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি যে দলের প্রতি নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না। ৫ আগস্টের পর নিজের দেশে ফেরা আটকে যাওয়াকে ‘সাজানো মব’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
আরটিভি/এসএইচএম



