টেক্সাসের গর্ব এনআরজি স্টেডিয়াম, বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ১১:৩০ পিএম


টেক্সাসের গর্ব এনআরজি স্টেডিয়াম, বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু
যুক্তরাষ্ট্রের এনআরজি স্টেডিয়াম : ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত এনআরজি স্টেডিয়াম ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু। এটি আধুনিক প্রযুক্তি, বিশাল ধারণক্ষমতা এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিখ্যাত ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে পরিচিত।

২০০২ সালে নির্মাণ শেষ হয় এই স্টেডিয়ামটির। এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার এবং এর দর্শক ধারণক্ষমতা ৭২ হাজার ২২০। বিশেষত্ব হলো, এটি ছিল এনএফএলের ইতিহাসে প্রথম রিট্র্যাকটেবল বা খোলা-বন্ধ করা যায় এমন ছাদযুক্ত স্টেডিয়াম।

ff2

এনএফএলের দল হিউস্টন টেক্সান্সের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয় এনআরজি স্টেডিয়াম। এছাড়া হিউস্টন লাইভস্টক শো অ্যান্ড রোডিও, টেক্সাস বোল, যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ, মেক্সিকো জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচসহ নানা আয়োজন নিয়মিত হয়ে থাকে এখানে। এর আগে সুপার বোল ৩৮ (২০০৪) ও সুপার বোল এলআই (২০১৭), ২০২৪ কলেজ ফুটবল প্লে-অফ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং রেসলম্যানিয়া ২৫-এর মতো বড় আয়োজনেরও আয়োজক ছিল এই স্টেডিয়াম।

২০২৬ বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়ামে মোট সাতটি ম্যাচ আয়োজন করবে। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ‘হিউস্টন স্টেডিয়াম’। এখানে হবে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ, একটি রাউন্ড অব ৩২ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে একটি রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচ।

আরও পড়ুন

স্টেডিয়ামটি এনআরজি পার্কের অংশ, যেখানে অ্যাস্ট্রোডোমসহ আরও কয়েকটি ভেন্যু রয়েছে। ২০০০ সালে এনআরজি এনার্জির সঙ্গে ৩২ বছরের ৩০ কোটি ডলারের নামকরণ চুক্তির মাধ্যমে পুরো কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে স্টেডিয়ামটির পুরোনো নাম ‘রিলায়ান্ট স্টেডিয়াম’-এ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

স্টেডিয়ামটির পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। উদ্দেশ্য ছিল অ্যাস্ট্রোডোমের পরিবর্তে এমন একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করা, যা খোলা স্টেডিয়ামের অনুভূতি দেবে, কিন্তু ইনডোর অ্যারেনার স্বাচ্ছন্দ্যও থাকবে। প্রায় ১৯ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০০ সালের ৯ মার্চ এবং মাত্র ৩০ মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

ff3

২০০২ সালের ২৪ আগস্ট মায়ামি ডলফিনস ও হিউস্টন টেক্সান্সের প্রাক-মৌসুম ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে স্টেডিয়ামটি। প্রথম নিয়মিত মৌসুমের এনএফএল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর, যেখানে টেক্সান্স ১৯-১০ ব্যবধানে হারায় ডালাস কাউবয়েজকে।

২০০৮ সালে হারিকেন আইকের আঘাতে স্টেডিয়ামের ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে টেক্সান্সের মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ স্থগিত করতে হয়। তবে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি না হওয়ায় দ্রুত মেরামত শেষে আবারও চালু করা হয় স্টেডিয়ামটি।

২০১৪ সালে রিলায়ান্ট এনার্জির মূল প্রতিষ্ঠান এনআরজি এনার্জির নামে স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘এনআরজি স্টেডিয়াম’।

স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করে হারমেস রিড আর্কিটেক্টস, লকউড অ্যান্ড্রুজ অ্যান্ড নিউনাম এবং পপুলাস (তৎকালীন এইচওকে স্পোর্ট)। আধুনিক ‘কাইনেটিক আর্কিটেকচার’ ব্যবহার করে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো এর রিট্র্যাকটেবল কাপড়ের ছাদ। দুটি বিশাল প্যানেল ৫০-ইয়ার্ড লাইনের মাঝখান থেকে খুলে যায় এবং পুরো ছাদ মাত্র সাত মিনিটে খোলা বা বন্ধ করা যায়। প্রতি মিনিটে প্রায় ৩৫ ফুট গতিতে চলে ছাদের অংশগুলো।

আরও পড়ুন

স্টেডিয়ামে রয়েছে সাত হাজারের বেশি ক্লাব সিট, ১৮৬টি বিলাসবহুল সুইট, একাধিক লাউঞ্জ ও বার। এছাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুট জায়গা মিটিং, প্রদর্শনী ও কনসার্ট আয়োজনের জন্য ব্যবহার করা যায়।

২০১৩ সালে স্টেডিয়ামে স্থাপন করা হয় বিশাল ডিজিটাল ভিডিও বোর্ড, যার আয়তন ছিল ১৪ হাজার ৫৪৯ বর্গফুট। সে সময় এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজিটাল ডিসপ্লে।

এনএফএলে হিউস্টন টেক্সান্সের হোম ভেন্যু হিসেবে ২০০২ সাল থেকে ব্যবহার হচ্ছে এই স্টেডিয়ামটি। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে টেক্সান্সের ইতিহাসের প্রথম প্লে-অফ ম্যাচও। ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি সিনসিনাতি বেঙ্গলসকে ৩১-১০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল টেক্সান্স।

এছাড়া সুপার বোল এলআই-এ নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিল এনআরজি স্টেডিয়াম। আটলান্টা ফ্যালকন্সকে ৩৪-২৮ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সুপার বোলে অতিরিক্ত সময়ে জয়ের ইতিহাস গড়েছিল প্যাট্রিয়টস।

রোডিও আয়োজনেও স্টেডিয়ামটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবছর মার্চ মাসে তিন সপ্তাহ ধরে অনুষ্ঠিত হয় বিখ্যাত ‘হিউস্টন লাইভস্টক শো অ্যান্ড রোডিও’। স্টেডিয়ামের ভেতরে পশু রাখার আলাদা ব্যবস্থা, বিশাল মঞ্চ এবং স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোলিক স্টেজ এটিকে অনন্য করে তুলেছে।

২০২৩ সালে টেইলর সুইফটের ‘এরাস ট্যুর’ উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে স্টেডিয়ামটির নাম সাময়িকভাবে রাখা হয়েছিল ‘এনআরজি স্টেডিয়াম (টেইলর’স ভার্সন)’। আর ২০২৪ সালের বড়দিনে এনএফএলের প্রথম ক্রিসমাস গেমডে হাফটাইম শো আয়োজন করা হয় এখানে, যেখানে মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বখ্যাত গায়িকা বিয়ন্সে।

আধুনিক প্রযুক্তি, ঐতিহাসিক ম্যাচ আয়োজন এবং বিশ্বমানের অবকাঠামোর কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়াম।

এনআরজি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সূচি
বি.দ্র: সূচি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী

গ্রুপ পর্ব
১৪ জুন, জার্মানি-কুরাসাও, রাত ১১ টা (১৪ জুন)
১৭ জুন, পর্তুগাল-ডিআর কঙ্গো, রাত ১১ টা (১৭ জুন)
২০ জুন, নেদারল্যান্ডস-সুইডেন, রাত ১১ টা (২০ জুন)
২৩ জুন, পর্তুগাল-উজবেকিস্তান, রাত ১১ টা (২৩ জুন)
২৬ জুন, কেপ ভার্দে-সৌদি আরব, সকাল ৬টা (২৭ জুন)

নকআউট (শেষ -৩২)
২৯ জুন, ম্যাচ -২, রাত ১১ টা

নকআউট (শেষ -১৬)
৪ জুলাই, ম্যাচ ১, সকাল ১০টা ৩০ মিনিট

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission