ইরান আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। সোমবার (১ জুন) এ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়।
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোয় ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর অনুষ্ঠিত হবে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে দেশটির এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এই দলে রয়েছে ১৭ জন দেশীয় লিগে খেলা খেলোয়াড়, যাদের ক্লাবগুলো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেনি।
গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে খেলা তারকা ফরোয়ার্ড মেহদী তারেমি বিদেশে খেলা ৯ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে রয়েছেন। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে তার স্ট্রাইক পার্টনার হিসেবে খেলা সরদার আজমাউনকে এই দলে তাকে রাখা হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল আহলিতে খেলা এই ফরোয়ার্ডকে রাজনৈতিক কারণে স্কোয়াডে রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।
মার্চে কোচ আমির ঘালেনোই আজমাউনকে বাদ দেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের উত্তেজনার সময় সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি কর্তৃপক্ষের অসন্তোষের কারণ হন। তার বদলে দলে নেওয়া হয়েছে দুবাইয়ের ক্লাবে তার সতীর্থ সাঈদ এজাতোলাহিকে।
ইরান দলে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের লিগে খেলা ৫ জন, বেলজিয়ামে খেলা ২ জন, গ্রিসে খেলা তারকা তারেমি এবং রাশিয়ায় খেলা একজন ফুটবলার। বেলজিয়াম লিগের খেলোয়াড় ডেনিস দারগাহি, যিনি ক্লাব স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজে ডেনিস একার্ট আয়েনসা নামে পরিচিত, তিনিও স্কোয়াডে আছেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান বর্তমানে তুরস্কের আন্তালিয়ায় ক্যাম্প করছে এবং শুক্রবার (৫ জুন) মেক্সিকোর তিহুয়ানায় তাদের টুর্নামেন্ট বেসে রওনা দেবে। ভিসা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে সমস্যা থাকায়, ইরান আগে নির্ধারিত অ্যারিজোনার টুসন ক্যাম্প বদলে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের জন্য ১০ দিন আগে ফিফার অনুমোদন পেয়েছে।
গ্রুপ জি-তে ইরান তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনগলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ছয় দিন পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে।
গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৩ জুলাই ডালাসে অবস্থিত কাওবয়েজ স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি হতে পারে।
ইরানের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: আলিরেজা বেইরানভান্দ (ট্রাক্টর), হোসেইন হোসেইনি (সেপাহান), পায়াম নিজামান্দ (পার্সেপলিস)।
ডিফেন্ডার: দানিয়াল আইরি (মালাভান), এহসান হাজসাফি (সেপাহান), সালেহ হারদানি (এস্তেঘলাল), হোসেইন কানানি (পার্সেপলিস), শোজায় খলিলজাদেহ (ট্রাক্টর), মিলাদ মোহাম্মদি (পার্সেপলিস), আলী নেমাতি (ফুলাদ), রামিন রেজাইয়ান (ফুলাদ)।
মিডফিল্ডার: রুজবেহ চেশমি (এস্তেঘলাল), সাঈদ এজাতোলাহি (শাবাব আল আহলি), মেহদী ঘায়েদি (আল নাসর), সামান ঘোদদোস (কালবা), মোহাম্মদ ঘোরবানি (আল ওয়াহদা), আলিরেজা জাহানবখশ (ডেনডার), মোহাম্মদ মোহেবি (রোস্তভ), আমির মোহাম্মদ রাজ্জাকিনিয়া (এস্তেঘলাল), মেহদী তোরাবি (ট্রাক্টর), আরিয়া ইউসেফি (সেপাহান)।
ফরোয়ার্ড: আলী আলিপুর (পার্সেপলিস), ডেনিস দারাগাহি (স্ট্যান্ডার্ড লিগ), আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ (ট্রাক্টর), মেহদী তারেমি (অলিম্পিয়াকোস) ও শাহরিয়ার মোগানলু (কালবা)।
কোচ: আমির ঘালেনোই
আরটিভি/এসএস



