ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন থাকে প্রতিটি ফুটবলারের। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে জীবনের অন্যান্য পরিকল্পনা অনেক সময়ই গৌণ হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক মাইকেল উডও তেমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ায় নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান এক বছর পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি।
অকল্যান্ড এফসির ২৭ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত বছর বাগদান করেন জানা রেন্টনের সঙ্গে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের সময়সূচির মধ্যেই তাদের বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে নিউজিল্যান্ডের কোচ ড্যারেন বাজেলি ঘোষিত ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে জায়গা পাওয়ার পর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনেন উড।
বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও জাতীয় দলের অংশ হতে পারাটাকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে উড বলেন, “আমার বাগদত্তা খুবই সমর্থন দিয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া খারাপ কিছু নয়। জীবনে চার বছর পরপর এমন সুযোগ আসে। আমরা আগামী বছর বিয়ে করব।”
বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার পথটি অবশ্য সহজ ছিল না উডের জন্য। মৌসুমের মাঝপথে ফর্মহীনতার কারণে অকল্যান্ড এফসির মূল একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে। পরে দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক অলিভার সেইল চোটে পড়লে আবার সুযোগ পান উড। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান তিনি।
অকল্যান্ড এফসির ইতিহাসে প্রথম এ-লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উড। মেলবোর্ন সিটির বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি ঠেকানো এবং সিডনি এফসির বিপক্ষে গ্র্যান্ড ফাইনালে ক্লিন শিট রেখে দলের সাফল্যে বড় অবদান রাখেন তিনি। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন এই গোলরক্ষক।
দলের তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে উড বলেন, আমার ভূমিকা পরিষ্কার। অন্য গোলরক্ষকদের সহায়তা করা এবং প্রয়োজন হলে নিজের সেরাটা দেওয়া।
আরটিভি/এসকে



