২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় পাঠানো ক্লাব হিসেবে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। ফিফার ক্লাব বেনিফিট কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা (প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ) আয় করবে ক্লাবটি।
শুক্রবার (৫ জুন) ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ক্লাবগুলোর জন্য ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই তহবিল থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ডলার করে প্রদান করা হবে।
প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার খেলবেন। ক্লাবভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে। ফলে টুর্নামেন্ট চলাকালে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পাবে ক্লাবটি।
শুধু বিশ্বকাপের মূল পর্ব নয়, বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকেও অর্থ প্রদান করছে ফিফা। বাছাইপর্বের ৯০৫টি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ফুটবলারদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো ম্যাচপ্রতি ২ হাজার ৩৬০ ডলার করে পেয়েছে। বিশ্বের ২০৯টি জাতীয় দল বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ায় হাজার হাজার ক্লাব এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। কেবল ইরিত্রিয়া ও রাশিয়া বাছাইপর্বে অংশ নেয়নি।
ফিফার ক্লাব পেমেন্ট কর্মসূচিতে অতীতেও সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ক্লাবটি প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৮ সালের রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিল।
ফিফা থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পাওয়ার পেতে পারে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮ ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলবে), প্যারিস সেইন্ট জার্মেই এবং আর্সেনালও (১৬ জন)। ইউরোপের বাইরে আল-হিলাল সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাব, যাদের ১২ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বকাপে। এই তালিকায় ক্রিস্টাল প্যালেস (১২) লিভারপুল (১১) ও রিয়াল মাদ্রিদকেও (১০) ছাড়িয়ে গেছে।
জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোর জন্য এই অর্থ প্রদান কর্মসূচি প্রথম চালু হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপ থেকে। তখন তহবিলের পরিমাণ ছিল ৪০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তা বেড়ে ৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ক্লাব তহবিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা এ কর্মসূচির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আরটিভি/এসকে



