যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বেইস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিহুয়ানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ইতোমধ্যে মেক্সিকোতে পা রেখেছে ইরানি ফুটবলাররা।
মেক্সিকোতে পৌঁছালেও ম্যাচের ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পায়নি দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ম্যানেজার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেললেও সেখানে ইরানের ফুটবলাররা রাত কাটানোর সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম দ্য মিররের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগের জের ধরেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমেরিকার এমন অনমনীয় সিদ্ধান্তের কারণে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান দলকে ম্যাচের দিন সকালে আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই সীমান্ত পার হয়ে চলে যেতে হবে। এমন নিয়ম একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন নজিরবিহীন কড়াকড়ির পেছনে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য অ্যাথলেট এবং প্রয়োজনীয় স্টাফসহ পুরো ইরানি দলের ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।
তবে একই সাথে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেন, স্পোর্টিং ভিসার অপব্যবহার করে ইরান যাতে কোনো ছদ্মবেশী সন্ত্রাসীকে আমেরিকার মাটিতে প্রবেশ করাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এমন সরাসরি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ টুর্নামেন্টের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান।
আরটিভি/এসআর




