ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত লুকা জিদান

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২০ এএম
লুজা জিদান : ছবি সংগৃহীত

ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন ১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই। দিনটিতে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ফাইনালে অসামান্য অবদান ও জোড়া গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে ফরাসিদের কিংবদন্তিতে পরিণত হন জিনেদিন জিদান। সেই বছরের ১৩ মে জিদানের ঘরে জন্ম নিয়েছিল তার দ্বিতীয় পুত্র সন্তান লুকা। বুধবার (১৭ জুন) সেই লুকার-ই অভিষেক হতে যাচ্ছে আলজেরিয়ার জার্সিতে। দেশটির পক্ষ থেকে তার গুরুদায়িত্ব থাকবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে জাল অক্ষত রাখার।

ফ্রান্সের এক্স-অঁ-প্রোভঁস শহরে জন্ম নেওয়া লুকা জিদান ফরাসি যুবদলের হয়ে খেলেছেন এবং ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন। তার বাবা ফরাসি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কিংবদন্তি হওয়া সত্ত্বেও, নিজের শিকড়ের টানকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই গত সেপ্টেম্বর মাসে গ্রানাডার এই গোলরক্ষক আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।

লুকার দাদা-দাদি, ইসমাইল ও মালিকা, ১৯৬২ সালে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। সেই পারিবারিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধনই লুকার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সেই ১০১ জন খেলোয়াড়ের একজন, যারা ফ্রান্সে জন্ম নিয়েও অন্য দেশের হয়ে খেলছেন।

আরও পড়ুন

লুকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি যখন আলজেরিয়ার কথা ভাবি, তখন সবার আগে আমার দাদার কথা মনে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই আমরা আলজেরীয় সংস্কৃতির মধ্যে বড় হয়েছি, আর এই ভালোবাসা আমাদের মধ্যে গড়ে তুলেছেন আমার দাদা-দাদি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে জাতীয় সংগীত শুনলে আমি অবিশ্বাস্য আবেগ অনুভব করি।’

নিজের বাবা জিনেদিন জিদানের মতোই, যিনি কখনও নিজের আলজেরীয় শিকড় লুকাননি, লুকাও সবসময় নিজের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত ছিলেন। আর সেটিই শেষ পর্যন্ত তাকে আলজেরিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে।

তবে কেবল আবেগ নয়, বাস্তবতাও ছিল একটি কারণ। উগো লরিসের যুগ শেষ হওয়ার পর মাইক মেনিয়ঁ ফ্রান্সের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ফলে ফরাসি জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা লুকার জন্য অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতেও আলজেরিয়ার ডাক তার জন্য হয়ে ওঠে হৃদয়ের টানে নেওয়া এক স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

ljjj
বাবা জিনেদিন জিদানের সঙ্গে ছেল লুকা জিদান

ভাই এনজো, থিও এবং এলিয়াজের মতোই লুকা জিদানও ফুটবলের হাতেখড়ি নিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমিতে। ২০১৮ সালের ১৯ মে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র ম্যাচে বাবা জিদানের অধীনে রিয়ালের প্রথম দলে অভিষেকও হয়েছিল লুকার।

আরও পড়ুন

তবে রিয়াল মাদ্রিদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারা এবং থিবো কোর্তোয়া ও কেইলর নাভাসের মতো বিশ্বমানের গোলরক্ষকদের ছায়ায় পড়ে যাওয়ায় তিনি নতুন পথ খোঁজার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর তিনি রায়ো ভায়োকানো, রেসিং সান্তান্দার এবং এসডি এইবারের হয়ে খেলেন। অবশেষে তিনি নিজের ঠিকানা খুঁজে নেন গ্রানাডায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে ৪৫ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৫টি ক্লিন শিট রেখেছেন এবং ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল। এপ্রিল মাসে আলমেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফরোয়ার্ড অস্কার নাসেইয়ের সঙ্গে সংঘর্ষে তার চোয়াল ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত লাগে। সৌভাগ্যক্রমে সুস্থ হয়ে ফিরলেও আক্রান্ত অংশকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষভাবে তৈরি একটি মুখোশ পরে খেলবেন তিনি।

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা, দক্ষ ও নান্দনিক ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে হয়ে লুকা কেন গোলরক্ষক হলেন?

এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বড় ভাই এনজোর। লুকা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি ভাইয়ের সঙ্গে ফুটবল খেলতাম। আমি আকারে ছোট ছিলাম বলে সে সবসময় আমাকে গোলপোস্টে দাঁড় করিয়ে দিত। সে বলত আমি নাকি বেশ ভালো গোলরক্ষক, যদিও এখনো জানি না সে সত্যি বলেছিল নাকি মজা করেছিল।’

তবে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ার ইচ্ছাও তাকে এই পথে এনেছে। লুকা ব্যাখ্যা করেন, ‘আমি গোলরক্ষক হিসেবেই থেকে গেছি কারণ আমার ব্যক্তিত্ব আলাদা। আমি বাবার সঙ্গে তুলনা পছন্দ করি না, আর গোলরক্ষক হলে তাঁর সঙ্গে তুলনা করা কঠিন।’

২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার মাঠের বাইরেও নিজের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা তার বিখ্যাত পদবির ভার থেকে আলাদা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশ সক্রিয় এবং নিজের ফ্যাশন-সচেতনতা ও ব্যক্তিগত স্টাইল নিয়মিত তুলে ধরেন।

‘ওল্ড মানি’ ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার ক্লাসিক, বহুমুখী ও মার্জিত পোশাক তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। লিনেন শার্ট, টেক্সচারযুক্ত পোলো শার্ট, ঢিলেঢালা পোশাক এবং ঘড়ি বা সানগ্লাসের মতো সূক্ষ্ম অনুষঙ্গ তাঁর স্টাইলের নিয়মিত অংশ।

লুকা বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, আমি আমার বাবাকে শ্রদ্ধা করি এবং এই পদবি বহন করতে গর্ববোধ করি। কিন্তু ফুটবলে আমি চাই মানুষ আমাকে লুকা হিসেবে চিনুক, বাবার সঙ্গে তুলনা করে নয়।’

সকালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লুকা। আর সেখান থেকেই শুরু করতে চাইবেন নিজের স্বতন্ত্র উত্তরাধিকার রচনার গল্প।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২৩ বছরের রূপকথা, আন্তর্জাতিক ফুটবলের যত রেকর্ড
কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরাটা ফুটবলার লিওনেল মেসি। এবার তার দেখানো পথেই হাঁটলেন আরেক ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।  আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড—দুটিই তার দখলে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউরো এবং ফিফা বিশ্বকাপেও রয়েছে তার একাধিক অনন্য কীর্তি।  আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যাত্রা শুরু ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট। কাজাখস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে গোল, ম্যাচ, বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিকতার বিচারে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। উয়েফার ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ম্যাচ ২৩৪টি, গোল ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই বিভাগেই তিনি বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। তার পরের অবস্থানে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি—২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ইরানের সাবেক স্ট্রাইকার আলী দাইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। দাইয়ে ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইরানের হয়ে ১০৯ গোল করেছিলেন। রোনালদো ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১৪৬-এ। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির চেয়ে ২০ গোল এগিয়ে তিনি। ১০০ আন্তর্জাতিক গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন রোনালদো—পুরুষদের ফুটবলে আলী দাইয়ের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ গোলের মতো ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ লিশটেনস্টাইনের বিপক্ষে মাঠে নেমে পর্তুগালের হয়ে নিজের ১৯৭তম ম্যাচ খেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে কুয়েতের বদর আল-মুতাওয়ার ১৯৬ ম্যাচের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে যান।  এরপর ২০২৩ সালের জুনে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথম ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ২০০-তে নিয়ে যান। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তার ম্যাচসংখ্যা ২৩৪। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার এই নজিরও তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিশ্বকাপেও বাজিমাত রোনালদোর বিশ্বকাপের ইতিহাসেও রোনালদোর একটি অনন্য রেকর্ড রয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপ আসরেই গোল করেছেন তিনি। পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় রোনালদো।   ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া, কাতার ও ২০২৬ সালের আসরেও গোলের দেখা পান। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে রোনালদোর ম্যাচ ২৭টি এবং গোল ১১টি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউরোতে রোনালদোর রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ। টুর্নামেন্টটির চূড়ান্ত পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তার।  উয়েফার হিসাবে, ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে রোনালদোর ম্যাচ ৩০টি এবং গোল ১৪টি। বাছাইপর্বসহ ইউরোতে তার ম্যাচ ৭৪টি, গোল ৫৫টি। ইউরোর ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের এত বেশি গোল নেই। ২০০৪ সালে নিজের প্রথম ইউরো আসরে খেলেন রোনালদো। এরপর ২০০৮, ২০১২, ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪—সব মিলিয়ে ছয়টি আসরে অংশ নিয়েছেন। ছয় আসরে খেলার রেকর্ডও তার।  ২০০৪ সালে পর্তুগাল ফাইনালে উঠলেও গ্রিসের কাছে হেরে যায়।  ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো শিরোপা জেতে পর্তুগাল। ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হলেও দলের শিরোপা জয়ের মুহূর্তে অধিনায়ক রোনালদো ছিলেন মাঠের বাইরে থেকে দলের প্রেরণা।   বাছাইপর্বেও গোলের বিশ্বরেকর্ড বিশ্বকাপ ও ইউরো—দুই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বেই গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার গোল ৪১টি। পুরুষদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ। ইউরো বাছাইপর্বেও তার গোল ৪১টি। ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে ১৪ গোল যোগ করলে প্রতিযোগিতাটিতে তার মোট গোল দাঁড়ায় ৫৫। ইউরোর বাছাইপর্ব ও চূড়ান্ত পর্ব মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। টানা ২৩ বছর গোল দীর্ঘ সময় ধরে গোল করার ধারাবাহিকতাও রোনালদোর বড় অর্জন। ২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হলেও প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি। ২০০৪ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৩ বছর জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছেন তিনি। উয়েফার তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা এত বছর গোল করার রেকর্ডও রোনালদোর। এর আগে আয়ারল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার রবি কিন ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৯ বছর গোল করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০ হ্যাটট্রিক পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর হ্যাটট্রিকের সংখ্যাও অনন্য। উয়েফার রেকর্ড অনুযায়ী, পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে চারটি করে গোল করেছেন। এ ছাড়া ২৮টি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ১১টি গোল করেছেন রোনালদো। হাঙ্গেরির বিপক্ষে তার গোল ৯টি। আর্মেনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে করেছেন সাতটি করে গোল। ছয় বিশ্বকাপ ও ছয় ইউরো একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার সাধারণত সীমিত সময়ের। কিন্তু রোনালদো দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলে একাধিক প্রজন্মের সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন। ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরো আসরে অংশ নেওয়া তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রমাণ। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফিফাকে দেওয়া বক্তব্যে রোনালদো জানান, বিশ্বকাপের মঞ্চে সেটিই ছিল তার শেষ অংশগ্রহণ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির পর পর্তুগালের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন। সে সময় তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২৩৪টি এবং গোল ১৪৬টি। আরটিভি/এসআর  
২৩ বছরের রূপকথা, আন্তর্জাতিক ফুটবলের যত রেকর্ড
জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে সিলেটে উড়ন্ত শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের, হতাশ টাইগাররা
মিরপুর টেস্টে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে বাংলাদেশ দল। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সিলেট টেস্টে মাঠে নেমেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু প্রথমদিনে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ভর করে দ্বিতীয় টেস্টে উড়ন্ত শুরু পেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান। আলোর স্বল্পতার কারণে শেষ সেশনে দ্বিতীয়বার খেলা বন্ধ হওয়ার পর আম্পায়াররা দিনের খেলার আগেভাগে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।  জাঙ্গু ১১১ রানে অপরাজিত আছেন। অন্য প্রান্তে গ্রিভস অপরাজিত ৩৫ রানে। দিনের শুরুটা অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। শুরুতেই আঘাত হানেন তাসকিন। ব্র্যান্ডন কিংকে ৯ রানে বোল্ড করেন তিনি।  তার পর কাভেম হজকে বোল্ড করেন হাসান। জশুয়া ডা সিলভাকে দ্রুত সময়ে তাসকিন এলবিডাব্লিউ করলে ২৭ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাক ফুটে চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার পর কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গুর ব্যাটে ম্যাচে ফেরে তারা।  চাপ সামাল দিতে জাঙ্গুর সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৩১ রানের দারুণ জুটি। অভিষেক টেস্টে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ৬১ রান করেন উইকহ্যাম। দ্বিতীয় সেশনে শেষ পর্যন্ত তাকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। তবে সেটিই ছিল দিনের বাকি সময়ে বাংলাদেশের শেষ সাফল্য। এক প্রান্ত আগলে রেখে তার পর জাঙ্গু তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অন্য প্রান্তে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করেন গ্রিভস। পঞ্চম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটিতে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন স্পিনার নিয়েও এরপর আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। পতন হওয়া ৪ উইকেটের মধ্যে হাসান নিয়েছেন দুটি। বাকি দুটি নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।  আরটিভি/এসআর
জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে সিলেটে উড়ন্ত শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের, হতাশ টাইগাররা
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন রোনালদো
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড গড়া ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত দীর্ঘ এক ভিডিওতে সমর্থকদের উদ্দেশে চিঠি পড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি জার্সিটি শুধু আমার একার। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব পেয়েছি। সময় এসেছে জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার।’ পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যাও রেকর্ড ১৪৬টি। এ দুই কীর্তি নিয়েই দেশের হয়ে বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। আরটিভি/এসআর
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন রোনালদো
ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার রবিনসন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন ডান-হাতি পেসার ওলি রবিনসন।  ২০২১ সালে টেস্ট দিয়ে অভিষেকের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন রবিনসন। তবে দুই বছর চার মাস পর আবারও ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পান রবিনসন। ২০২৬ সালের জুনে দলে ফিরেই বল হাতে চমক দেখান তিনি।   নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে- ৫ ও ২ উইকেট নেন রবিনসন। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে ২১ উইকেট শিকার করেন। চলতি বছর চার টেস্টে অসাধারণ বোলিং পারফরমেন্সের স্বীকৃতিস্বরূপ লর্ডসে আয়োজিত ‘ভাইটালিটি ক্রিকেট মিডিয়া ক্লাব অ্যাওয়ার্ড’-এ বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে রবিনসনের নাম ঘোষণা করা হয়।  ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বব উইলিসের নামে এই ট্রফি দেওয়া হয়। ট্রফি জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী রবিনসন বলেন, এই পুরস্কার পাওয়াটা অনেক বড় সম্মানের। দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ড দলের বাইরে থাকার পর ফিরে এসে এবারের গ্রীষ্মে যে পারফরমেন্স দেখাতে পেরেছি, তা আমার কাছে বিশেষ কিছু। তিনি আরও বলেন, এই যাত্রাপথে কিছু কঠিন মুহূর্তও ছিল, এ কারণে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ইংল্যান্ডের হয়ে আবারও খেলতে পারাটা দারুণ উপভোগ করেছি এবং আশা করি সামনে আরও অনেক কিছু অর্জন করার সুযোগ পাব। এদিকে, বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন মিডলসেক্সের পেসার নাভিয়া শর্মা। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ৯ ম্যাচে ৩৫ উইকেট নিয়ে মিডলসেক্সের ওয়ানডে কাপ জয়ে অবদান রাখেন তিনি। বর্তমানে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আছেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। আরটিভি/এসআর
ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার রবিনসন
ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেল ওমান
শেষ দল হিসেবে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ওমান। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ ২-এর আট দলের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে থাকায় বাছাই পর্বের টিকিট পায় ওমান।  বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে লিগ-২ এর শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৪২ রানে হারে ওমান।  ৩৬ ম্যাচ খেলে ৩৩ পয়েন্ট আছে ওমানের। একই চিত্র নামিবিয়ারও। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় চতুর্থ স্থানে থেকে ওমান বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে জায়গা করে নেয়।  ওমানের রান রেট -০.২২৪। পঞ্চম স্থানে থাকা নামিবিয়ার রান রেট -০.২২৪। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে খেলবে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক নামিবিয়া। লিগ ২-এ পয়েন্ট টেবিলের শেষ চার দল হিসেবে নামিবিয়ার সঙ্গে প্লে-অফে খেলবে- নেপাল, আরব আমিরাত ও কানাডা। লিগ-২ এর পয়েন্ট টেবিলের প্রথম চার দল সরাসরি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলবে। সেরা চারের মধ্যে থেকে ওমানের পাশাপাশি বাছাই পর্বে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস।  সমান ৩৬ ম্যাচ খেলে যুক্তরাষ্ট্র ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, স্কটল্যান্ড ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং নেদারল্যান্ডস ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল। আগামী বছর ২ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ১৪টি দল নিয়ে ১২টি ভেন্যুতে মোট ৫৭ ম্যাচ হবে। আরটিভি/এসআর
ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেল ওমান
আরও পড়ুন
নিলামে উঠছে মেসিদের বিশ্বকাপ জয়ের সেই ট্রফি!
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুললেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
আর্জেন্টিনায় ফেরার গুঞ্জন, মেসির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
দিবালা-মার্তিনেজসহ চোটে আর্জেন্টিনার ৫ অভিজ্ঞ তারকা