বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ, উত্তেজনা আর অফুরন্ত উন্মাদনা। চার বছর অপেক্ষার পর বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের এক মঞ্চে দেখার আনন্দ যেন আলাদা এক অনুভূতি। মাঠে তাদের দুরন্ত গতি, নিখুঁত পাস, অসাধারণ গোল কিংবা অবিশ্বাস্য দক্ষতা দর্শকদের মুহূর্তেই মুগ্ধ করে। তবে শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, এই তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং জীবনযাপন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কৌতূহল বরাবরই একটু বেশি। কারণ একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, বরং সেটি তার ফিটনেস, শক্তি ও পারফরম্যান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বছরের বেশিরভাগ সময় কঠোর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেন ফুটবলাররা। শরীরের সক্ষমতা ধরে রাখতে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট খাবার খেতে হয় তাদের। তবে এত নিয়মের মাঝেও প্রত্যেক মানুষের মতো তাদেরও রয়েছে কিছু ব্যক্তিগত পছন্দ। ম্যাচ শেষে, বিশেষ অর্জনের পর কিংবা বিশেষ দিনগুলোতে প্রিয় খাবারের স্বাদ নিতে পিছিয়ে থাকেন না তারা। কেউ ঘরোয়া সাধারণ খাবারে তৃপ্তি খুঁজে পান, কেউ আবার মাংস, মাছ, চিজ কিংবা নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় তারকাদের এমনই কিছু প্রিয় খাবারের তালিকা জানলে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রিয় খাবারের তালিকায় অন্যতম স্থান দখল করে আছে পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ‘ব্যাকালাও আ ব্রাস’। কড মাছ, পেঁয়াজকুচি, আলু ও ডিম দিয়ে বিশেষভাবে রান্না করা হয় এই খাবারটি। অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় এটি তার কাছে বেশ প্রিয়।

লিওনেল মেসি বরাবরই সাধারণ ও ঘরোয়া স্বাদের খাবার পছন্দ করেন। তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার ‘মিলানেসা নিয়াপোলিটানা’। মাংসের কাটলেটের সঙ্গে টমেটো সস, হ্যাম এবং চিজের স্তর দিয়ে তৈরি এই খাবার আর্জেন্টিনায় বেশ জনপ্রিয়।

কিলিয়ান এমবাপে চিজ ও মাংসজাতীয় খাবারের প্রতি দুর্বল। তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ‘হ্যামন ইবেরিকো উইথ মাঞ্চেগো চিজ’। ভেড়ার দুধের বিশেষ চিজের সঙ্গে মাংসের স্বাদ তাকে বেশ আকর্ষণ করে।

মোহাম্মদ সালাহর সবচেয়ে প্রিয় খাবার মিশরের জনপ্রিয় পদ ‘কোশারি’। ভাত, ডাল, পাস্তা, টমেটো সস এবং নানা মশলার মিশ্রণে তৈরি এই খাবারের উপর ছড়িয়ে দেওয়া হয় মুচমুচে ভাজা পেঁয়াজ।

লামিন ইয়ামাল পছন্দ করেন ‘আরোজ কন পোলো’। চিকেন, ভাত এবং বাদামের ঘন সস দিয়ে তৈরি এই লাতিন আমেরিকান খাবারটি স্বাদে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর।

নেইমার জুনিয়র সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন ঘরের তৈরি খাবার। তার খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, বিন, ভাজা আলু এবং মাংসের কোনো পদ। সাধারণ খাবারেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

কেভিন ডি ব্রুইনার পছন্দ ‘রিকোটা ক্যানেলোনি’। লম্বা নলাকার পাস্তার ভেতরে পালং শাক ও চিজের পুর দিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ ইতালীয় খাবার।

হ্যারি কেন কন্টিনেন্টাল ধরনের সাধারণ খাবারই বেশি পছন্দ করেন। ভাত, স্যামন মাছ এবং হালকা ভাপানো সবজি তার নিয়মিত পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

সন হিউং-মিন ভালোবাসেন ‘বুলগোগি’ ও কিমচি। মশলা দিয়ে ম্যারিনেট করা গ্রিলড বিফের সঙ্গে কিমচির ঝাল-টক স্বাদ তার কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পছন্দ ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘ফেজোয়াদা’। কালো বিন ও মাংস দিয়ে তৈরি এই খাবার সাধারণত সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

জুড বেলিংহামের প্রিয় ‘চিট মিল’ হলো ‘সানডে রোস্ট’। এতে সাধারণত রোস্ট করা মাংস, আলু, বিভিন্ন সেদ্ধ সবজি ও পুডিং পরিবেশন করা হয়।

লুকা মদ্রিচ পছন্দ করেন ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘পেকা’। ভেড়ার মাংস, আলু ও অক্টোপাস একসঙ্গে ধীরে ধীরে রান্না করা হয় এই খাবারে।

জামাল মুসিয়ালার পছন্দ ‘শ্নিটসেল’। মাংসের পাতলা টুকরো ব্রেডক্রাম্বে মেখে মুচমুচে করে ভেজে তৈরি করা হয় এই খাবার।

রোমেলু লুকাকু ভালোবাসেন ‘কার্বোনেড ফ্ল্যামান্ড’। দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা মাংসের এই স্ট্যু বেলজিয়ামে খুব জনপ্রিয়।

ফেদেরিকো ভালভার্দের পছন্দের খাবার ‘অ্যাসাডো’। কাঠকয়লার আগুনে ধীরে ধীরে ঝলসানো মাংসের এই পদ উরুগুয়ের ঐতিহ্য বহন করে।

ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের পছন্দ ‘ফিলাডেলফিয়া চিজস্টেক’। পাতলা মাংসের টুকরো ও গলানো চিজ দিয়ে তৈরি এই স্যান্ডউইচ তার খুব প্রিয়।

বার্নার্ডো সিলভা হাঁসের মাংসের পোলাও জাতীয় ‘আরোজ দে পাতো’ খেতে পছন্দ করেন।

আর্লিং হালান্ড সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী কাবাব, যা স্বাদে অনন্য এবং প্রোটিনে সমৃদ্ধ।
ফুটবলের তারকারা মাঠে যতই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে থাকুন না কেন, খাবারের ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত পছন্দও বেশ বৈচিত্র্যময়। কেউ মাছে, কেউ মাংসে, আবার কেউ ঘরোয়া স্বাদের সাধারণ খাবারেই খুঁজে পান তৃপ্তি।
আরটিভি/এমএইচজে




