ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা শুধু দুটি দেশের নাম নয়, আবেগেরও প্রতীক। বিশ্বকাপ এলেই এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা, তর্ক-বিতর্ক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে ফুটবলের বাইরেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা রয়েছে দেশ দুটির। কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
ইতিহাস বলছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেওয়া দেশটি ছিল ব্রাজিল।
বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার মূল কেন্দ্র ফুটবল। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় গভীর রাতেও টেলিভিশনের সামনে বসে নেইমার, মেসি কিংবা তাদের সতীর্থদের খেলা উপভোগ করেন লাখো সমর্থক। ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও বাংলাদেশি সমর্থকদের এক ধরনের আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো কিংবা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘এমি’ মার্টিনেজও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।
ফুটবলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কেও দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। একইভাবে আমদানির ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলের অবস্থান এগিয়ে। দুই দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহের কথা জানান।
অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে পুনরায় দূতাবাস কার্যক্রম শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
আরটিভি/এমএইচজে




