২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিলেও ব্রাজিলের বিদায়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন দলের তারকা ফুটবলার নেইমারের জন্য। পাশাপাশি ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল নির্বাচন এবং দীর্ঘ সময় নেইমারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে মাশরাফি লিখেছেন, শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে। হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিককে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে।
বিশ্বকাপের শুরুতে কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত দলে জায়গা পেলেও প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি নেইমার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এরপর জাপানের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচেও খেলার সুযোগ হয়নি। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও ৬৮ মিনিট পর্যন্ত বেঞ্চেই ছিলেন নেইমার। মাশরাফির মতে, আরও বেশি সময় পেলে হয়তো ম্যাচের গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত।
পোস্টে নেইমারের ফুটবলীয় সামর্থ্যেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষ্য, নেইমারের মতো ড্রিবলার খুব কমই দেখা যায়। বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস কিংবা পেনাল্টি নেয়ার দক্ষতা সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। তবে নানা কারণে তার ক্যারিয়ার যে উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত, বাস্তবে সেটির কাছাকাছিও যেতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন মাশরাফি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নেইমারের আবেগঘন মুহূর্তও তাকে স্পর্শ করেছে বলে জানান তিনি।
ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচেও আক্ষেপের জায়গা দেখছেন মাশরাফি। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি পেনাল্টির সুযোগ পেয়েও সেগুলোর পুরো সুবিধা নিতে পারেনি সেলেসাওরা। বিশেষ করে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের স্পট কিক থেকে গোল করতে না পারাকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হারেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ব্রাজিলের।
তবে পেনাল্টি মিসকে খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন মাশরাফি। তার মতে, পেনাল্টি পাওয়া যেমন খেলার অংশ, তেমনি সেটি মিস করাও খেলার অংশ। তাই শুধু পেনাল্টি পেলেই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেই ম্যাচে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারায়।
এ প্রসঙ্গে মাশরাফি লিখেন, দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল। বিগত চার বছর এই পেনাল্টি নিয়ে যারা চিল্লাপাল্লা করেছে, আজ সেই পেনাল্টিই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ, আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হয় না। এমন নয় যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল। তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে। যাক, কোনো ব্যাপার না। ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইল সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে...।
ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশে সমবেদনাও জানিয়েছেন মাশরাফি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জিতবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মানসিক দৃঢ়তার কথাও উল্লেখ করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি লিখেন, আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো। কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন-তেন বিষয় নয়। আমি তো বলি, পৃথিবীর সবচেয়ে লয়্যাল সমর্থক একমাত্র আমরাই।
আরটিভি/এসকে



