আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মেলিনা মোরিয়াতিস যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় যৌন নিপীড়নের চেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিদের ম্যাচ কাভার করতে গিয়ে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি।
৬ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা মোরিয়াতিস জানান, সোমবার ভোরে আটলান্টার একটি কমফোর্ট ইন হোটেলে চেক-ইন করতে গেলে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেন।
তার দাবি, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছে লবিতে প্রবেশ করার পর ওই ব্যক্তি তার পিছু নেন এবং পরে একই লিফটে ওঠেন। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় লিফটের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই তিনি দ্রুত বেরিয়ে এসে হোটেলের রিসেপশনে আশ্রয় নেন এবং সাহায্য চান।
ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আবেগাপ্লুত মোরিয়াতিস বলেন, গত রাতে এখানে আটলান্টায় আমি যৌন নিপীড়নের চেষ্টার শিকার হয়েছি। হয়তো আরও ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারত। কয়েকজন আর্জেন্টাইন আমার জীবন বাঁচিয়েছেন।
তার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আর্জেন্টিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার সান হুয়ান থেকে বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা চার সমর্থক গনসালো পেরেজ, হুয়ান ইগনাসিও তুরকাতো, নিকোলাস তোমাসিনি এবং ফ্রান হিদালগো মোরিয়াতিসের পাশে দাঁড়ান।
মোরিয়াতিস জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত ওই চার সমর্থক তাকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছে যেতে না পারে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চার সমর্থকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোরিয়াতিস বলেন, আমি এই মানুষগুলোর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে চিনতেন না, তবুও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন অপরিচিত মানুষকে রক্ষা করেছেন।
এদিকে, চার সমর্থকের একজন হুয়ান ইগনাসিও তুরকাতো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির আচরণ ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
তার ভাষায়, লোকটি সম্ভবত মাদকের প্রভাবে ছিল এবং নিজের সঙ্গেই কথা বলছিল। পরিস্থিতি যেন সহিংস হয়ে না ওঠে, সেদিকে খেয়াল রেখেই আমরা মেলিনাকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছি। এমন অবস্থায় থাকা একজন মানুষ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না।
তবে এ ঘটনায় পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কি না বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরটিভি/এসকে



