আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পাশে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২৮ পিএম


আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পাশে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উদযাপনের সময় ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ফিফার কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার জন্য প্রযোজ্য। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দেরও নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ ছিল।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফিফার রাজনৈতিক বার্তা নিষিদ্ধ করার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার কাছে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, “বিশ্বকাপ আমাদের নাও হতে পারে, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনো দুর্বল হবে না।”

ডাউনিং স্ট্রিট আরও জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি পুরোপুরি ফিফার সিদ্ধান্ত। তবে তাদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ঘটনাটি তদন্ত করা।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকারও ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ তারা দেখতে চায় না এবং ফিফা যেন নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

এদিকে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে ব্যানার নিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, তারা ভুলে গেছে যে আমরা এটিকে আমাদের রক্ত ও হৃদয়ে বহন করি।”

ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কয়েক দশক ধরে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ চলছে। ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপটির ৯৯ শতাংশের বেশি ভোটার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দেন। তবে আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission