আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা গুগলের এআই অ্যাপ জেমিনি হয়তো আপনার অজান্তেই নজর রাখছে ব্যক্তিগত চ্যাটে—এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো অ্যাপেও! সম্প্রতি গুগলের তরফে পাঠানো একটি বার্তার সূত্রে এই উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
গুগলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই জেমিনি আপনার ফোন, মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সহায়তা করতে পারবে। অবাক করার বিষয় হলো, এ কাজ করতে জেমিনি অ্যাপ খোলা না থাকলেও তা পারবে। অর্থাৎ, আপনার ফোনে জেমিনি অ্যাপ ইনস্টল থাকলেই, আপনার ডেটা তার কাছে পৌঁছে যেতে পারে!
গুগলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, "জেমিনি অ্যাপ আপনাকে সরাসরি গুগলের এআই সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করবে। আপনার চ্যাট অ্যাকটিভিটিগুলো অন্তত ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে, এমনকি জেমিনি অ্যাপ বন্ধ থাকলেও।"
এখানেই উঠছে প্রশ্ন ব্যবহারকারীর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়াই কীভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে ব্যক্তিগত বার্তা? বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম, যেখানে 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন' থাকার কথা!
মেটা (হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি) জানায়, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সম্পূর্ণ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড। এমনকি মেটাও সেই চ্যাট দেখতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ফোনে আসা নোটিফিকেশনগুলো মেটার নিয়ন্ত্রণে নেই। সেই সুযোগেই সেগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে গুগলের জেমিনি।
এর মানে, আপনি যদি হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল কথা বলেন, সেটি সরাসরি না হলেও নোটিফিকেশন বা এক্সেস পারমিশনের মাধ্যমে জেমিনির নজরে আসতে পারে।
কীভাবে বন্ধ করবেন জেমিনির নজরদারি?
আপনি চাইলে কিছু সেটিং পরিবর্তনের মাধ্যমে জেমিনির তথ্য সংগ্রহ আংশিকভাবে বন্ধ করতে পারেন।
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে জেমিনি অ্যাপ খুলুন।
উপরে ডানদিকে থাকা প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করুন।
মেনু থেকে "Gemini App Activity" সিলেক্ট করুন।
সেখানে গিয়ে ডেটা সংগ্রহ বন্ধের বাটন অফ করে দিন।
মনে রাখবেন, তা সত্ত্বেও ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কিছু তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
যদি আপনি চান নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপের তথ্য যেন জেমিনি না দেখে, তাহলে:
প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে
"Apps" বা "Manage App Access" অপশনে যান
শুধুমাত্র আপনি যে অ্যাপগুলোর তথ্য শেয়ার করতে চান, সেগুলোর টিকচিহ্ন দিন
বাকি সব ডিজেবল করে দিন।
ব্যবহারকারীরা যতই সুবিধার জন্য এআই টুল ব্যবহার করুন না কেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গোপনীয়তা রক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কারণ, ফোনে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য বা চ্যাট এগুলো কেবল আমাদের কথাবার্তা নয়, আমাদের জীবন, পরিচিতি ও নিরাপত্তার অংশও বটে।
আরটিভি/এসকে




