ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আপনার ফেসবুক আইডি সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ফেসবুক বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের নির্ভরতা ও আসক্তি দুটোই বেড়েছে। আর এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র। ফেসবুক এখন অনলাইন প্রতারণার অন্যতম বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

প্রতারকরা নানা কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তা ফেরত দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করা। আবার অনেক সময় হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আপত্তিকর, অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপরাধমূলক পোস্ট দেওয়া হয়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা বিব্রতকর ও বিপদজনক পরিস্থিতিতে পড়েন।

এ ধরনের ঘটনায় প্রতিদিনই থানায় অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ছে। তবে এরপরও হ্যাকারদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছু নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চললে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অনেকাংশে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

অজানা লিংকে ক্লিক না করা: মেসেঞ্জারে অনেক সময় আকর্ষণীয় বা প্রলোভনমূলক লিংক আসে। এসব লিংকে ক্লিক করলে ফেসবুকের মতো দেখতে ভুয়া পেজে নিয়ে যাওয়া হতে পারে, যেখানে আবার লগইন করতে বলা হয়। সেখানে ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিলে সহজেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে। কারণ এটি প্রকৃত ফেসবুক সাইট নয়।

ওয়েব ঠিকানা যাচাই করা: ব্রাউজারে ফেসবুকে লগইন করার সময় অবশ্যই ইউআরএল ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। ঠিকানা যেন https://www.facebook.com দিয়ে শুরু হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় হ্যাকাররা ‘facebook’-এর মতো দেখতে ভুয়া ডোমেইন যেমন ‘facebok’, ‘ffacebook’ বা ‘facbook’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই সরাসরি নিজে টাইপ করে facebook.com-এ প্রবেশ করাই নিরাপদ।

থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহারে সতর্কতা: যেসব অ্যাপ বা ওয়েবসাইট আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার নিয়েছে, সেগুলো নিয়মিত যাচাই করা উচিত। সন্দেহজনক কোনো অ্যাপ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা অপসারণ করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে।

সন্দেহজনক ডিভাইস থেকে লগআউট: সিকিউরিটি সেটিংস থেকে দেখা যায় কোন কোন ডিভাইস বা স্থান থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছে। অচেনা কোনো ডিভাইস পাওয়া গেলে সেখান থেকে দ্রুত লগআউট করতে হবে। এছাড়া ফেসবুকের জেনারেল সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ইমেইল ঠিকানা যাচাই করা জরুরি। নিজের অনুমতি ছাড়া কোনো ইমেইল যুক্ত থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলতে হবে। এরপর শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা নিরাপদ। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা: অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা অত্যন্ত কার্যকর। এতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও মোবাইল ভেরিফিকেশন ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। ফেসবুকের সিকিউরিটি চেকআপ থেকেও সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা সম্ভব।

সবশেষে, ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত ইমেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত—প্রতি ১ থেকে ৩ মাস পরপর। এতে সামগ্রিকভাবে অনলাইন নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ম্যাজিক চার্জার’, স্মৃতিতে এক প্রজন্মের প্রযুক্তি-নস্টালজিয়া
একসময় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ দিতে ফোনের প্রয়োজনই হতো না। ফোন থেকে ব্যাটারি খুলে আলাদা করে বসিয়ে দিতে হতো একটি বিশেষ চার্জারে।
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ম্যাজিক চার্জার’, স্মৃতিতে এক প্রজন্মের প্রযুক্তি-নস্টালজিয়া
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয় বিএস-১-কে। পরে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় শঙ্কা।
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
বিপদের মুখে পৃথিবী, বিজ্ঞানীদের কঠোর সতর্কতা
মানব সভ্যতার টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক পৃথিবীর ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে।
বিপদের মুখে পৃথিবী, বিজ্ঞানীদের কঠোর সতর্কতা
জেমিনি ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গুগলের
বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবায় বড় পরিবর্তন আনছে গুগল। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে জেমিনি ফ্ল্যাশ ও জেমিনি প্রো মডেল ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এ ক্ষেত্রে বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরা শুধু জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেল ব্যবহার করতে পারবেন। গুগলের সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেমিনি অ্যাপ বা ডেস্কটপ সংস্করণে একাধিক মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে করা সব প্রশ্নের উত্তর দেবে জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট। জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইটকে তুলনামূলকভাবে কম খরচের মডেল হিসেবে বিবেচনা করে গুগল। এর চেয়ে বেশি সক্ষম ফ্ল্যাশ মডেল। আর জটিল কাজ ও উন্নত যুক্তি বিশ্লেষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রো মডেল।  শুধু বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরাই নয়, পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে গুগলের এআই প্লাস গ্রাহকদের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্রে মাসে ৫ ডলারের এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের সুবিধা হারাবেন। গুগলের দাবি, জেমিনি ৩.১ প্রো জটিল গণিত ও কোডিংয়ের কাজে বেশি সক্ষম। পাশাপাশি টেক্সট, ফাইল, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে এর বোঝার ক্ষমতাও অন্য মডেলের তুলনায় বেশি। ফলে কোডিং, পড়াশোনা কিংবা বিপুল পরিমাণ নথি বিশ্লেষণের কাজে জেমিনি ব্যবহারকারীদের আরও ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশন নিতে হতে পারে। গুগল এআই প্রোর মাসিক খরচ ২০ ডলার। আর আরও বেশি ব্যবহারের সীমা থাকা এআই আল্ট্রা প্ল্যানের জন্য মাসে অন্তত ১০০ ডলার খরচ করতে হবে। এদিকে মডেল ব্যবহারে নতুন ‘এফোর্ট লেভেল’ সুবিধাও যুক্ত করছে গুগল। ব্যবহারকারীরা লো, মিডিয়াম ও হাই-এই তিনটি স্তর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন। স্তর যত বাড়বে, মডেল তত বেশি বিশদ ও গভীরভাবে কাজ করবে। তবে বেশি এফোর্ট লেভেল ব্যবহারে নির্ধারিত ব্যবহারের সীমাও দ্রুত শেষ হবে। এআই আল্ট্রা গ্রাহকদের জন্য থাকছে আরও উন্নত সুবিধা। তারা জেমিনির সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য ‘ডিপ থিংক’ অপশন পাবেন। এছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনি ৪ আর্গন উন্মুক্ত হলে এআই আল্ট্রা গ্রাহকরাও সেটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে মডেলটি শুধু গুগলের ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর সরকার ও বিশ্বস্ত অংশীদারদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত রয়েছে। জেমিনি ফ্ল্যাশ সাধারণত দ্রুত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া, লেখা তৈরি ও সম্পাদনা, অনুবাদ, ছবি বিশ্লেষণ, তথ্য সংক্ষেপ করা এবং সাধারণ কোড লেখা বা বিশ্লেষণের মতো কাজ করা যায়।  অন্যদিকে, জেমিনি প্রো তুলনামূলক জটিল ও বিশ্লেষণধর্মী কাজের জন্য তৈরি। জটিল গণিত ও যুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধান, কোডিং, বড় নথি বিশ্লেষণ এবং টেক্সট, ছবি, ফাইল ও ভিডিও থেকে তথ্য বিশ্লেষণে এটি বেশি সক্ষম। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বড় নথি বিশ্লেষণ, বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং পড়াশোনার সহায়তায় জেমিনি প্রো ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে, সফটওয়্যার নির্মাতারা কোড তৈরি, ভুল শনাক্ত ও কোড বিশ্লেষণের কাজেও এটি ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, দ্রুত উত্তর, সাধারণ লেখালেখি, অনুবাদ কিংবা দৈনন্দিন তথ্যভিত্তিক কাজের জন্য জেমিনি ফ্ল্যাশ বেশি উপযোগী। সূত্র: এনগ্যাজেট আরটিভি/এসআর
জেমিনি ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গুগলের
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে চায় সরকার। প্রত্যেক নাগরিকেরই থাকবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ। ডিজিটাল পরিচয় যাচাই শেষে প্রত্যেকে পাবেন একটি নম্বর (ডিজিটাল পরিচিতি)। ডাক অধিদপ্তরের ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমে দেশের পোস্টম্যানদের বিট এলাকা চিহ্নিত করে ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার বা ডাক পৌঁছানোর স্থানগুলো শনাক্ত করে যুক্ত করা হবে তথ্যভান্ডারে। ধাপে ধাপে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের ঠিকানা এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের। যুক্ত করা হবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও। এর মূল লক্ষ্য দেশের কোনো মানুষ যেন ঠিকানার বাইরে না থাকেন। কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো বার্তা পাঠাতে হলে তা যেন ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠানো যায় সেটিও এ প্রকল্পের লক্ষ্য। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টম্যানদের নির্দিষ্ট বিট রয়েছে। একজন পোস্টম্যানের আওতায় কয়েকশ পরিবার থাকতে পারে। অনেক এলাকায় বাড়ি বা ভবনের নির্দিষ্ট নম্বর থাকলেও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তির নাম, বাড়ির নাম বা স্থানীয় পরিচিতির মাধ্যমে ঠিকানা শনাক্ত করা হয়।  ফলে একই ধরনের বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে অনেক সময় ডাক ও অন্য সেবা পৌঁছাতে তৈরি হয় জটিলতা। প্রকল্পের আওতায় প্রথমে এসব বিটকে ডিজিটালভাবে চিহ্নিত করা হবে। এরপর যুক্ত করা হবে প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার ও ডেলিভারি পয়েন্টের তথ্য। এভাবে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ঠিকানা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আরটিভি/এসআর
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
আরও পড়ুন
রিজভীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি-পেজ, থানায় জিডি
হঠাৎ উধাও আলভীর প্রয়াত স্ত্রী ইকরার ফেসবুক আইডি, যা জানা গেল