মানুষের নানা কাজ এখন সহজ করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর কথোপকথনভিত্তিক সফটওয়্যার। তবে গবেষকরা বলছেন, এসব প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের চিন্তা, স্মৃতি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
গবেষকদের মতে, অনেকেই এখন লেখালেখি, তথ্য খোঁজা বা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বেশি নির্ভর করছেন। ফলে ধীরে ধীরে নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করার প্রবণতা কমে যেতে পারে।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল গবেষক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। সেখানে তাদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়।
একটি দলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লেখা তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়। আরেকটি দল শুধু তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে। আর তৃতীয় দল কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার না করে নিজের চিন্তায় লেখা তৈরি করে।
পরীক্ষায় দেখা যায়, যারা নিজে চিন্তা করে লিখেছে তাদের মস্তিষ্কে কার্যকলাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়।
গবেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে মানুষ যখন প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে, তখন সৃজনশীল চিন্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব
পরীক্ষার পরে দেখা যায়, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লেখা তৈরি করেছে তারা নিজেদের লেখার অংশও ঠিকভাবে মনে রাখতে পারেনি। অনেকেই বলেছেন, লেখাটি যেন তাদের নিজের মনে হয়নি।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত এমন হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি অবশ্যই মানুষের কাজে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু যদি মানুষ নিজের চিন্তা না করে সব কাজ প্রযুক্তির ওপর ছেড়ে দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
তাই গবেষকদের পরামর্শ, প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু নিজের চিন্তা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা সবসময় সক্রিয় রাখা জরুরি। কারণ নিয়মিত মস্তিষ্ককে কাজে লাগালেই তা দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় থাকে।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



