ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে এআইয়ের নিখুঁত উত্তরের পেছনে অবদান রাখছেন বাংলাদেশিরা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
বিশ্বজুড়ে এআইয়ের নিখুঁত উত্তরের পেছনে অবদান রাখছেন বাংলাদেশিরা । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে এআইয়ের বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের পেছনে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশের হাজারো মুক্তপেশাজীবী। তারা এআইয়ের বিভিন্ন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, ভবিষ্যতে নিজেদের এআইভিত্তিক পণ্য ও সেবা তৈরি করতে না পারলে এই খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তথ্য সাজানো, ভুল সংশোধন, উত্তর মূল্যায়ন, ছবি ও শব্দ শনাক্তকরণ, কথোপকথনের মান যাচাই এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। এসব কাজের মাধ্যমে এআই আরও নির্ভুল ও কার্যকর হয়ে ওঠে।

বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের তথ্য প্রস্তুত ও সাজানোর বৈশ্বিক বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ২৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ছিল। ২০৩৪ সালের মধ্যে এর আকার প্রায় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এআই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন কাজে যুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশেও এই খাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মুক্তপেশাজীবী রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা বৈদেশিক বাজারে কাজ করে প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কম খরচে দক্ষ জনবল দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। তবে সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক অনেক কাজ এখন ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এসব কাজের চাহিদা কমে যেতে পারে।

উত্তর দক্ষিণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাবিল মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, এআইয়ের তথ্য প্রস্তুতের কাজ দেশের জন্য ভালো সূচনা হলেও এটিকে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এটি আগের মতোই শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কম খরচের কাজ করার আরেকটি খাতে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, এআইয়ের সাধারণ প্রশিক্ষণের কাজ দ্রুত গুরুত্ব হারাতে পারে। তাই শুধু এসব দক্ষতায় সীমাবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতে কম মজুরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

এই খাতে কাজ করা তাওসিফ নিলয় গণমাধ্যমকে জানান, এআইয়ের প্রশিক্ষণ থেকে প্রকল্প সমন্বয় বা নীতিনির্ধারণের মতো উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আরেক কর্মী ফারদিন জারিফ বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে ছাঁটাইয়ের কারণে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ বাজারে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য প্রস্তুতের কাজ নয়, বরং নিজস্ব এআইভিত্তিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য নীতিগত সহায়তা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছয় মাসে ৮০ বিলিয়ন ডলার লোকসান এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ক্লডের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিট লোকসান করেছে।
ছয় মাসে ৮০ বিলিয়ন ডলার লোকসান এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের
বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি, আসছে ‘ভিউয়ারস’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স পরিমাপের পরিচিত ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হতে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপে ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিককে গুরুত্ব দেবে প্ল্যাটফর্মটি।
বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি, আসছে ‘ভিউয়ারস’
সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ট্রেন্ড এড়ানো কঠিন কেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। কখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ছবি অ্যানিমেশনে রূপান্তর, কখনও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে ভিডিও তৈরি, আবার কখনও নানা চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ট্রেন্ড এড়ানো কঠিন কেন?
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তা নিয়ে সন্দেহ হলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব।
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
অভিযোগ থেকে সমাধান, সব এক অ্যাপেই!
রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সমস্যা- নগরজীবনে এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এসব সমস্যা জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়া, অভিযোগ জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা কিংবা কোন বিভাগ ব্যবস্থা নেবে, তা খুঁজে বের করাও অনেক সময় নাগরিকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়। এই বাস্তবতায় পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। 
অভিযোগ থেকে সমাধান, সব এক অ্যাপেই!
আরও পড়ুন
এআই ‘১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু’ ঘটাতে পারে: বিল গেটস
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান: শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর, মাসিক খরচ মাত্র ২০ ডলার
টাইম ম্যাগাজিনের এআই ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ
এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি