ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশ্লীল কনটেন্টে সহজে প্রবেশের ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, অভিভাবকীয় তদারকি এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি শতভাগ বন্ধ করার কোনো একক প্রযুক্তিগত সমাধান নেই। তবে নিরাপত্তা সেটিংস, কনটেন্ট ফিল্টার, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এবং দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে অনুপযুক্ত কনটেন্টে প্রবেশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
গুগলে তথ্য অনুসন্ধানের সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ছবি, ভিডিও বা ওয়েবসাইট সামনে আসতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে গুগলের সেফসার্চ ফিচার চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ফিচার সার্চ ফলাফল থেকে অধিকাংশ অশ্লীল কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার করে দেয়। যদিও এটি শতভাগ কার্যকর নয়, তবুও নিরাপদ ব্রাউজিং নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ফ্যামিলি লিংক এবং আইফোনে স্ক্রিন টাইম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব ফিচারের মাধ্যমে অ্যাপ ইনস্টল, ওয়েবসাইটে প্রবেশ এবং মোবাইল ব্যবহারের সময় সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অনেক ওয়েব ব্রাউজার ও নিরাপত্তা অ্যাপে ক্ষতিকর বা প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইট ব্লক করার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ DNS বা ওয়েব ফিল্টার ব্যবহারের মাধ্যমেও অশ্লীল ওয়েবসাইটে প্রবেশ সীমিত করা সম্ভব। একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি কার্যকর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজ বা অপরিচিত ওয়েবসাইটের আকর্ষণীয় লিংকে ক্লিক করলে অনেক সময় ব্যবহারকারী অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্টে চলে যেতে পারেন। একই সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণ বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিও থাকে। তাই অপরিচিত লিংক ও অবিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিশুদের বয়স উপযোগী ভাষায় ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে বোঝানো প্রয়োজন। কোনো অনুপযুক্ত কনটেন্ট সামনে এলে কী করতে হবে এবং কেন কিছু কনটেন্ট ক্ষতিকর এসব বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা তাদের দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অতিরিক্ত সময় একা মোবাইল ব্যবহার করলে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্টে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো বিকল্প কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অ্যাপ অশ্লীল ওয়েবসাইট ব্লক, ব্রাউজিং নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুবিধা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব অ্যাপ অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্নোগ্রাফি থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা নয়। সচেতনতা, দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার, অভিভাবকদের সক্রিয় তদারকি এবং পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগের সমন্বয়ই শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
আরটিভি/এসকে



