শেষ হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। নানা আলোচনা, সমালোচনা এবং প্রকাশকদের মাঝে বিক্রির প্রবল অসন্তোষ নিয়েই রোববার (১৫ মার্চ) শেষ হয়েছে ১৮ দিনের এই সংক্ষিপ্ত আয়োজন। দেশের সবচেয়ে বড় এই বই উৎসবকে ঘিরে প্রতিবারই লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে। তবে এবারের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে প্রথাগত পহেলা ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এবারের মেলা শুরু হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের তুলনায় মেলার স্থায়িত্ব কম হওয়ায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে এবারের মেলায় বইয়ের কেনাবেচায় কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি মাসেই পবিত্র রমজানের আগমন—সব মিলিয়ে মেলা আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল। রমজানে পাঠক সমাগম কম হওয়ার আশঙ্কায় মেলা ২৫ দিনে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ‘প্রকাশক ঐক্য’সহ বড় একটি অংশ ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবি জানালে বাংলা একাডেমি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে।
সবশেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারিত হয়। উল্লেখ্য, এবারের মেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন রাখা হয়নি ও প্রকাশকদের স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়েছিল। বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, গত বছর মেলায় ৩ হাজার ২৯৯টি নতুন বই প্রকাশিত হলেও এবার শেষ দিন পর্যন্ত সেই সংখ্যা ছিল দেড় হাজারের কম। অর্থাৎ নতুন বইয়ের সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমেছে।
অধিকাংশ প্রকাশকের দাবি, বিক্রিও গতবারের তুলনায় অর্ধেকের কম হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বই বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে বিক্রয়কর্মীদের বেতন জোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। লেখকদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় পাঠক উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। তবে প্রতিকূলতার মাঝেও ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ।
প্রকাশকরা বলছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হওয়া এবং ১৫ মার্চ শেষ হওয়ার সিদ্ধান্তে তারা শুরু থেকেই দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন। অনেক বড় প্রকাশনা সংস্থা এবার তাদের বিনিয়োগের অর্ধেকও তুলতে পারেনি বলে দাবি করেছে।
আরটিভি/এমআই





